পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) নবনিযুক্ত ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি অনুষদের শিক্ষকদের সঙ্গে পৃথক পৃথক মতবিনিময় সভায় অংশ গ্রহণ করেন।।

সোমবার (১৫ জুন) সকাল ১০টায় ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের সম্মেলন কক্ষে অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীনের সভাপতিত্বে এবং সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ সাব্বির হোসেনের সঞ্চালনায় আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. বদিউজ্জামান, অধ্যাপক আবুল বাশার খান, অধ্যাপক ড. সুজাহাঙ্গীর কবির সরকার, ওশানোগ্রাফি অনুষদের ডিন ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম, মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ইমরানুল ইসলাম, ইকোনমিক্স অ্যান্ড সোসিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. অনুপ কুমার মণ্ডল এবং সহযোগী অধ্যাপক মো. মমিন উদ্দিন।

সকাল ১১টায় সিএসই অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. খোকন হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন সাবেক ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ জামাল হোসেন, অধ্যাপক ড. মো. বেল্লাল হোসেন, ওশানোগ্রাফি অনুষদের ডিন ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম, ম্যাথমেটিক্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সিসিই বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক গোলাম মো. মুরাদুল বশির, অধ্যাপক ড. মো. শামসুজ্জামান, সিআইটি বিভাগের অধ্যাপক মো. আতিকুর রহমান এবং অধ্যাপক ড. অলি রায় চৌধুরী।

একই দিন দুপুর ১২টায় মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল হকের সভাপতিত্বে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. মো. লোকমান আলী, ল’ অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ জামাল হোসেন, ওশানোগ্রাফি অনুষদের ডিন ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম, ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. মিজানুর রহমান, অধ্যাপক ড. কানিজ রওফসানা সুমি, অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল আলম, অধ্যাপক ড. মো. রাজীব সরকার এবং অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম।

তিনটি সভার শুরুতেই উপাচার্যকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান বলেন, “একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণশক্তি তার শিক্ষক সমাজ। শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আপনাদের সকলের সহযোগিতায় আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যেন সঠিকভাবে পালন করতে পারি। আমরা সবাই মিলে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে আমাদের স্বপ্নের মতো করে সাজাতে চাই।”

শিক্ষার্থীদের প্রতি আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে উপাচার্য বলেন, “শিক্ষকদের উচিত শিক্ষার্থীদের আরও কাছাকাছি যাওয়া, তাদের সময় দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা। শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ, নৈতিক চর্চা ও একাডেমিক উৎকর্ষ নিশ্চিত করতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর আন্তরিক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদে বিদ্যমান শিক্ষক ও জনবল সংকটের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “প্রয়োজনীয় জনবল ঘাটতি দ্রুত নিরসনের জন্য প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, গবেষণার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি, শিক্ষার্থীবান্ধব প্রশাসন গড়ে তোলা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আধুনিক, মানবিক ও উৎকর্ষতার বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য।”

সভাগুলোতে উপস্থিত শিক্ষকরা শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ উন্নয়ন, অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধি এবং অনুষদভিত্তিক বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয় তুলে ধরেন। উপাচার্য এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়নে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের ডেপুটি ডাইরেক্টর মাহফুজুর রহমান সবুজ ও উপাচার্যের একান্ত সচিব মো: আরিফুর রহমান নোমান।