পটুয়াখালীর গলাচিপায় পৃথক জায়গা থেকে ডোবায় শিশু মাঈনুল (৮) ও ঘরে লামিয়া আক্তার সুমাইয়া নামের এক কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া লাশ দুটি ময়না তদন্তের জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আলাদা আলাদা ভাবে আইনী প্রক্রিয়া চলমান আছে বলে জানিয়েছেন গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইমতিয়াজ আহমেদ।
মঙ্গলবার সকালে গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের।বাঁশবাড়িয়া গ্রামের একটি ডোবা থেকে মনির খানের ছেলে মাঈনুল (৮) এর লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মাঈনুলের লাশটি উদ্ধার করে। তবে এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় মাঈনুল গলাচিপা উপজেলা সদরের উদ্দেশ্যে কলাগাছিয়া ইউনিয়নের নিজ বাড়ি থেকে বের হয়। মঙ্গলবার সকালে চৌরাস্তার কালভার্টের সামনে ডোবায় তার মরদেহ দেখা যায়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের মাতম বইছে।
এদিকে, গলাচিপা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিবাগ এলাকায় লামিয়া আক্তার সুমাইয়া (২০) নামের এক কিশোরীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে গলাচিপা থানা পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার বেলা ১১ টার দিকে। লামিয়া গলাচিপা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কলাবাগান এলাকার আলমগীর শিকদারের মেয়ে। লামিয়া কথা নামের অপর আরেক কিশোরীর সাথে শান্তিবাগ এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত।
লামিয়ার বান্ধবী সানজিদা জানায়, “লামিয়া কথা নামের এক কিশোরীর সাথে বিভিন্ন জায়গায় নৃত্য করত। কথা ভোলা থেকে ফোন দিয়ে সাজিদাকে জানায়- লামিয়া নাকি গলায় দড়ি দিবে, তুই একটু বাসার দিকে যা।”
এরপর সানিজদা বাসায় আসার পর ঘরের টিনের ফাঁক দিয়ে দেখে লামিয়া দাঁড়িয়ে আছে, চেয়ার নিচে পড়া। পরে পাশের লোকজন ডেকে দরজা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে ডাক চিৎকার দিলে অন্যান্য লোকজন ছুটে আসে। তিনি আরও জানান, “লামিয়া ৫-৬ দিন আগে গলাচিপায় আসে। এরপর থেকে সে এ ভাড়া বাসায় কথা’র সাথেই থাকত।”
স্থানীয় বাসিন্দা শাহিদা জানান, “লামিয়া ঢাকাতেই থাকে এবং সেখানে ড্যান্স (নৃত্য) করে বলে শুনেছি। গত ৫-৬দিন আগে গলাচিপায় আসে। আজকে সকালে তার গলায় ফাঁস দেওয়ার খবর শুনে আসি। এর বেশি কিছু আমরা জানি না।”
এ প্রসঙ্গে গলাচিপা থানার অফিসার ইন চার্জ মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “শিশু মাঈনুল ও কিশোরী লামিয়ার লাশ উদ্ধার করে সুরাত হাল রিপোর্ট শেষে ময়না তদন্তের জন্য পটুয়াখালী জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। মৃত্যুর কারণ উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। আইনী প্রক্রিয়া চলমান আছে।”