পটুয়াখালীর গলাচিপায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় ৩ জন আহত হয়েছে। মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে তাদেরকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

শনিবার রাত আনুমানিক ৮ টায় পানপট্টি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে তুলাতলি গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন শাহ আলম মোল্লা দুই পুত্র অপু মোল্লা (২৪) অমিন মোল্লা (২৭) অমিন মোল্লার স্ত্রী ফারজানা বেগম (২৩) গুরুতর আহত হয়। এলাকাবাসী তাদেরকে উদ্ধার করে গলাচিপার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাক্তার মেসবাহ উদ্দিন জানান, “আমার চিকিৎসাধীনে দ্বিতীয় তলায় তিনজন রোগী ভর্তি রয়েছে। আহত ফারজানাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।”

আহত অপু মোল্লা বলেন, “জমি সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে আমাদের বাড়ির সামনে আমাদেরকে মারধর করে।” আহত অমিন মোল্লা বলেন, “আমাদের বাড়ির দরজায় ছোট ভাইকে মারধর করা দেখে আমি ঘটনাস্থলে গেলে আমাকেও মারধর করে। আমার ডাক চিৎকারে আমার স্ত্রী গেলে তাকেও মারধর করেন।”

তিনি আরো বলেন, “আমাদের একই গ্রামের সজীব মাতুব্বর, বাবুল মাতব্বর, শহীদুল মাতব্বর, মনির মাতুব্বর, উজ্জ্বল মাতব্বর, মোতালেব মাতব্বর ও মোসা. সাহিনুর বেগম একত্রিত হয়ে আমাদেরকে মারধর করে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।”

আহত ফারজানা বেগম বলেন, “আমার স্বামীকে মারধর করায় আমি ঘটনাস্থলে গেলে আমাকেও মারধর করে।” আহত অপু মোল্লার পিতা শাহ আলম মোল্লা বলেন, “জমি সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে আমার দুই ছেলে ও পুত্রবধূকে মারধর করেছে প্রতিপক্ষরা। আমি সরকারের কাছে এদের সঠিক বিচার চাই।”

অপু মোল্লার মা রানী বেগম বলেন, “জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আমার দুই ছেলে ও বউকে মেরেছে। আমি এদের সঠিক বিচার চাই।”

প্রতিপক্ষ সজীব মাতব্বর ও বাবুল মাতব্বরের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, “আমাদের একজন রোগী আহত হয়েছে। আমরাও তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। পানপট্টি ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য মালেক হাওলাদার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ রানা বলেন, “ইউপি সদস্যের কাছ থেকে বিষয়টি শুনেছি। দুপক্ষকে ডেকে মীমাংসার ব্যবস্থা করব।

গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি তদন্ত জিলন শিকদার বলেন, “অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এ বিষয়ে আহত অপু মোল্লার পিতা শাহ আলম মোল্লা থানায় লিখিত অভিযোগ করবেন বলে জানান।