পটুয়াখালী শহরে পুকুরের পানিতে ডুবে মোসাঃ লামিয়া আক্তার (১০) ও মোসাঃ সেফা মনি (১১) নামে দুই বান্ধবীর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, এক বান্ধবীকে বাঁচাতে গিয়ে আরেক বন্ধবীরও মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (২২ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পটুয়াখালী শহরের কালিকাপুর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উকিল বাড়ি সংলগ্ন একটি পুকুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত লামিয়া ওই এলাকার ভাড়াটিয়া জাকির হোসেনের মেয়ে এবং দারুন নাজাত প্রি-ক্যাডেট নূরানী একাডেমির পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং সেফা মনি কালিকাপুর সালেহীয়া দাখিল মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও একই এলাকার আবু সুফিয়ানের মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে দুই বান্ধবী একসঙ্গে খেলাধুলা করছিল। খেলতে খেলতে তারা বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ পরেও তাদের দেখা না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পুকুরপাড়ে তাদের জুতা দেখতে পেয়ে সন্দেহ হলে স্থানীয়দের সহায়তায় পুকুরে তল্লাশি চালিয়ে দুই শিশুকে উদ্ধার করা হয়। দ্রুত তাদের পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

দুই শিশুর এমন করুণ মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতাল ও নিহতদের বাড়ির পরিবেশ।

নিহত লামিয়ার বাবা জাকির হোসেন বলেন, “আমার মেয়ে সাতার জানতো। হয়তো সেফা পানিতে পরে গিয়েছিল ওরে বাঁচাতে গিয়া আমার মেয়েও ডুবে গেছে। এরপর হাসপাতালে নেয়ার আগেই ওরা মারা গ্যাছে। আমার দুই মেয়ে এক ছেলে ছিলো। এর মধ্যে এখন একজন নেই এটা ভেবেই কান্না থামাতে পারিনা।”

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘”এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দেয়া হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”