‎চিহ্নিত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস ও হানিট্র্যাপ চক্রের মূলহোতা আজাহার উদ্দিন খানকে পুনরায় গ্রেফতার করে আইনের আওতায়  দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে পটুয়াখালীতে কাফনের কাপড় পরে ব্যতিক্রমী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

‎​রোববার (১৭ মে) সকালে সদর  উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের সচেতন নাগরিক সমাজের আয়োজনে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন হাজির হাটের ব্যবসায়ী আনোয়ার হাওলাদর, মাওলানা মোজাম্মেল মোল্লা, কাওসার মল্লিক, বিল্লাল হাওলাদার, সুলতান হাওলাদার, আবুল হোসেন হাওলাদার, মাওলানা জোবায়ের প্রমুখ।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, হাজিরহাট এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও হানিট্র্যাপ চক্রের মূলহোতা আজাহার খানকে পুলিশ গ্রেফতার করার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সে জামিনে বের হয়ে আসে। কারামুক্ত হয়েই ক্ষিপ্ত আজাহার প্রকাশ্য দিবালোকে মামলার বাদীকে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে এবং মামলা তুলে না নিলে প্রাণনাশের  হুমকি দেয়।

‎​গ্রেপ্তারের ২৪ ঘন্টার মধ্য হানিট্রাপ মামলার আসামী  দ্রুত জামিনে মুক্ত হয়ে প্রকাশ্যে বাদীকে হুমকি দিয়ে মামলা তুলে নিতে বলায় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

‎‎মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্তরের শত শত সচেতন নাগরিক অংশ নেন। এ সময় আন্দোলনকারীরা শরীরে কাফনের কাপড় জড়িয়ে সড়কে লুটিয়ে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তোলেন।

বিক্ষোভ শেষে জেলা প্রশাসক এর কাছে একটি স্মারকলিপি পেশ করেন বিক্ষোভকারীরা।

স্মারকলিপিতে ভুক্তভোগীরা উল্লেখ করেন, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, হানিট্রাপ চক্রের হোতা আজাহার উদ্দিন খানের অত্যাচার ও নির্যাতনে এলাকার আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে। সাধারণ মানুষের জানমাল ও নিরাপত্তা এখন মারাত্মক হুমকির মুখে। আজাহার খানের নেতৃত্বে হানিট্রাপের চক্রটি সাধারণ, নিরীহ ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে অনৈতিক ফাঁদে ফেলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সম্প্রতি ১০ মে ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলামকে হানিট্রাপের মাধ্যমে ১৫ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় পুলিশ ১৩ মে আজাহার খানকেসহ ৩ জনকে আটক করে। এই দুর্ধর্ষ প্রভাবশালী আজাহার খান আটকের ২৪ ঘন্টার মধ্যে জামিনে মুক্ত হয়। এতে এলাকার জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। 

এ ছাড়াও তার (আজাহার খান) বিরুদ্ধে স্থানীয় ব্যবসায়ী, বাড়ি নির্মানকারী ও সাধারণ চাকুরীজীবীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক মোটা অঙ্কের টাকা চাঁদা দাবী করে। চাঁদা না দিলে শারীরিক নির্যাতন ও প্রাণ নাশের হুমকির অনেক অভিযোগ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে স্মারকলিপিতে জানা গেছে, আজাহার খান গং স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. রফিক মীর’র কাছ থেকে ৩ লক্ষ টাকা, মিজান মীরের কাছ থেকে ২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা, সাদ্দামের কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা, ইমরান হাওলাদারের কাছ থেকে ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।