নারায়নগঞ্জে মার্মান্তিক গ্যাস বিষ্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ হয়ে একই পরিবারের ৫জন সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিসাধীন অবস্থায় সর্বশেষ আজ শুক্রবার সকালে গৃহবধু সায়মা বেগমের মৃ-ত্যুর মধ্য দিয়ে পরিবারটির ইতি ঘটে।
এদের সকলের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের উত্তর কনকদিয়া গ্রামে।
পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে, অভাব অনটনের কারণে পরিবারের ৫সদস্য নিয়ে নারায়নগঞ্জের ফতুল্লায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন আবুল কালাম(৫০)। ঘটনার ২দিন আগে গ্যাস পাইপে লিকেজ টের পেয়ে বাড়ির মালিককে অবহিত করেন কালাম। কিন্তু কোন কর্নপাত করেননি তিনি।
গত রবিবার সকালে কালাম সিকারেট খাওয়ার জন্য দিয়াসলাই জ্বালানোর সাথে সাথে পুরো ঘরে আগুন লেগে য়ায়। এতে ঘরে থাকা ৩সন্তান মুন্নি (১০), কথা(৭), ছেলে মুন্না(৮) এবং তার স্ত্রী সায়মা বেগম(৩২) সহ মোট ৫জন অগ্নিদগ্ধ হন।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাদেরকে জাতীয় বার্ন ও প্লাষ্টিক সার্জারী ইন্সিটিউটে ভর্তি করানো হয়।
চিকিৎসারত অবস্থায় গত সোমবার আবুল কালাম নিজে মারা যান। এরপর বুধবার মেয়ে কথা, বৃহস্পতিবার সকালে ছেলে মুন্না ও বিকালে মেয়ে মুন্নি মারা যান। সর্বশেষ শুক্রবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে স্ত্রী সায়মা মারা যাওয়ার মধ্যদিয়ে পরিবারের শেষ আলো নিভে যায়।
গত সোমবার আবুল কালামকে তার নিজ বাড়িতে দাফন করা হলেও টাকার অভাবে বাকি ৪জনের লাশ হাসপাতাল হিমাগারে সংরক্ষিত থাকে। পরে স্থানীয় একটি সামাজিক সংগঠনের সহায়তায় তাদের লাশ ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। আজ রাতে তাদের রওয়ানা হয়ে আগামী কাল শনিবার সকালে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সকাল ৮টায় জানাজা শেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের কথা নিশ্চিত করেছেন স্থানীয়রা।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়েছি। এটি একটি মার্মান্তিক মৃ-ত্যু। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আগামীকাল সকালে ৪জনের লাশ দেশে আসবে। ৮টায় জানাজা হওয়ার কথা রয়েছে।