পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে টানা চার দিনের ভারী বর্ষণ ও কালবৈশাখী ঝড়ে মুগ ডালের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠের পর মাঠ এখন পানির নিচে। বিশেষ করে পানি নিষ্কাশনের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় খেতেই পচে যাচ্ছে পরিপক্ক ডাল। এমন অবস্থায় কর্দমাক্ত মাটি আর পানি মাড়িয়ে অপরিণত ফসল ঘরে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মির্জাগঞ্জে ৫ হাজার ২১৫ হেক্টর জমিতে মুগ ডাল চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষি বিভাগের উৎসাহে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৫ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে ডালের আবাদ হয়েছে। ফলনও হয়েছিল আশাতীত। কিন্তু শেষ মুহূর্তের দুর্যোগে সব আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে কৃষকদের।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, নিচু এলাকার খেতগুলোতে গোড়ালি সমান পানি জমে আছে। কোথাও কোথাও ডাল গাছ প্রায় অর্ধেক ডুবে রয়েছে। রোদ উঠলে এই জমে থাকা পানি তপ্ত হয়ে গাছের গোড়া পচে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন চাষিরা।
আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের ময়দা গ্রামের কৃষক বিজয় শীল বলেন, “এক একর জমিতে মুগ ডালের আবাদ করেছিলাম। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সব তলিয়ে গেছে। এখন পানি জমে গাছ শুকিয়ে লাল হয়ে যাচ্ছে। যা অবশিষ্ট আছে, তা-ই কোনোমতে তোলার চেষ্টা করছি।”
একই দুশ্চিন্তা দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নের চতরা গ্রামের কৃষক মো. দুলাল পেঁদার। তিনি জানান, সরকারি সহায়তায় পাওয়া সার ও বীজ দিয়ে ৩০ শতাংশ জমিতে চাষ করেছিলেন। কিন্তু ফলন কাটার ঠিক আগমুহূর্তে অকাল বৃষ্টিতে তার সব স্বপ্ন এখন ভেস্তে যাওয়ার পথে।
এদিকে টানা বৃষ্টির ফলে নিচু জমির ফসল রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে স্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে দ্রুত পানি সরে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কম হতে পারে বলে তারা আশা করছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “পরপর কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে মুগ ডালের খেত তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের দ্রুত পানি নিষ্কাশনের পরামর্শ দিচ্ছি। রোদ উঠলে এবং দ্রুত পানি শুকিয়ে গেলে উঁচু জমির ফসলের তেমন ক্ষতি হবে না। তবে নিচু জমির ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।”
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা বা সরকারি সহায়তা না পেলে আগামী মৌসুমে চাষাবাদ চালিয়ে যাওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।