দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে পটুয়াখালীর বাউফলে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল জব্বার মৃধাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এক চিঠির মাধ্যমে তাকে অব্যাহতি প্রদান করেন।
অব্যাহতি-পত্রে উল্লেখ করা হয়, আপনার নিকট ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছিল। আপনার প্রদত্ত লিখিত ব্যাখ্যা জেলা বিএনপি কর্তৃক পর্যালোচনায় গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়নি। অতএব, দলীয় শৃঙ্খলা ও গঠনতন্ত্রের আলোকে আপনাকে বাউফল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সকল পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো, যা অদ্য হতে কার্যকর করা হলো।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির একাধিক নেতা বলেন, আব্দুল জব্বার মৃধা বিএনপির দুঃসময়ের কাণ্ডারি। বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের সময়ে তিনি দলের পক্ষে কাজ করেছেন। দলের জন্য অর্থ ব্যয় করেছেন। তাকে অব্যাহতি দেওয়ায় বাউফলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে সূত্রে জানা যায়- এ অব্যাহতির লাইন আরও লম্বা হতে পারে এমনটাই ধারণা করছেন উপজেলা বিএনপির সচেতন মহল। কারণ অনেকেই দলীয় শৃঙ্খলা ও গঠনতন্ত্রের আলো মানছেন না। অনেকেই বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব শহিদুল আলম তালুকদারের পক্ষে তথা ধানের শীষের পক্ষে মাঠে না নেমে নিরবতা পালন করছেন। নিরবতার মাঝে অনেকেই বলছেন হয়তো গোপনে গোপনে জামায়াতের প্রার্থীর সাথে আঁতাত করে কিভাবে দলীয় প্রার্থী কে পরাজিত করা যায় সেই দর কষাকষি চলছে বা হয়েছে।
আবার কেউ কেউ বলছেন তাদের মনমত প্রার্থীকে মনোনয়ন না দেওয়ায় রাগ অভিমানে নিজেদের কে সরিয়ে রাখছেন। কিন্তু এতে ব্যক্তি নয় বরং দলেরই ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে জানান।
উল্লেখ্য, বাউফল উপজেলায় বিএনপির হেভিওয়েট সাবেক এমপি শহিদুল আলম তালুকদার, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক মু. মুনির হোসেন ও কেন্দ্রীয় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইন্জিনিয়ার একেএম ফারুক আহমেদ তালুকদার তিন নেতার তিন গ্রুপ চলে আসছিল। তিন গ্রুপই বিভিন্ন ভাবে দলীয় কর্মকাণ্ড কর্মসূচি পালন করে। তিন গ্রুপের নেতাকর্মীরাই তাদের পছন্দের নেতা যেন দলীয় মনোনয়ন পায় সেইদিকে তারা তাদের নেতার সাথে দৌড়ঝাঁপ দিয়েছিল। কিন্তু সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সাবেক এমপি শহিদুল আলম তালুকদারকে পটুয়াখালী-২ বাউফল আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করে মনোনয়ন দেন কেন্দ্রীয় বিএনপি। এতে মুনির হোসেন গ্রুপ ও ফারুক আহমেদ তালুকদার গ্রুপের নেতাকর্মীরা অসন্তোষ প্রকাশ করে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। তাতে কেন্দ্রীয় বিএনপির টনক না নড়লে তারা চুপ থেকে পরিশেষে ওই দুই গ্রুপের অনেক নেতাকর্মীরা দলের সিদ্ধান্ত কে সাধুবাদ জানিয়ে শহিদুল আলম তালুকদারের সাথে যোগ দিয়ে ধানের শীষের পক্ষে মাঠে কাজ করছেন। কিন্তু আবার অনেক নেতাকর্মীদেরকে ধানের শীষের পক্ষে মাঠে এখন পর্যন্ত দেখা যায় না। তবে অনেকেই মনে করেন রাগ অভিমান করা নেতারা অতি দ্রুত শহিদুল আলম তালুকদারের পক্ষে মাঠে ধানের শীষকে বিজয় করতে কাজ শুরু করবেন। নাহয় মনে করা হবে যে তারা গোপনে গোপনে জামায়াতের প্রার্থীর সাথে আঁতাত করেছেন।