০৫:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

“আউট অব স্কুল চিলড্রেন” শিক্ষা কর্মসূচি; ৮ মাস ধরে বেতন ভাতা পাচ্ছে না ৫ হাজার টাকা বেতনের ৬শ শিক্ষক কর্মচারী

মোঃ মেহেদী হাসান (বাচ্চু), পটুয়াখালীঃ আট মাস ধরে বেতন ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো’র আওতায় পরিচালিত চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) এর ‘আউট অব স্কুল চিলড্রেন’ শিক্ষা কর্মসূচির পটুয়াখালী জেলায় কর্মরত ৬ (ছয়) শতাধিক শিক্ষক, সুপারভাইজার ও কর্মকর্তারা। অজানা কারণে গত জানুয়ারি হতে আগষ্ট ২০২৪ পর্যন্ত আট মাস যাবৎ বেতন পাচ্ছেন না এই প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পটুয়াখালী জেলায় পিডিও (পীস এন্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো’র সহযোগিতায় পিইডিপি-৪ এর সাব-কম্পোনেন্ট ২.৫ ‘আউট অব স্কুল চিলড্রেন’ শিক্ষা কর্মসূচি’ বাস্তবায়ন করছে। দেশে শতভাগ শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ কর্মসূচিতে ৮-১৪ বছর বয়সী (বিদ্যালয় বহির্ভূত বা ঝরে পড়া কিংবা কখনো বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়নি) এমন মোট ১৬,৮০০ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষাচক্রে ভর্তি করা হয়েছে।

পিডিও এর জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তাগণ জানান, পটুয়াখালী জেলার ৮ উপজেলায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে জরীপের ভিত্তিতে এ জেলায় ৫৬০টি শিখন কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে ১৬ হাজার ৮০০ জন শিক্ষার্থীকে উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা ৪র্থ শ্রেণিতে লেখাপড়া করছে। চলমান কর্মসূচিতে ৫৬০ জন শিক্ষক, ৪০ জন প্রোগ্রাম সুপারভাইজার, ৮ জন উপজেলা প্রোগ্রাম ম্যানেজার, ৪ জন জেলা কর্মকর্তা ও ১ জন অফিস সহায়ক কর্মরত রয়েছেন। কর্মসূচি বাস্তবায়ন কৌশল অনুযায়ী উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো হতে প্রাপ্ত বরাদ্দের আলোকে পিডিও কর্তৃক ‘আউট অব স্কুল চিলড্রেন’ শিক্ষা কর্মসূচির শিক্ষকদের বেতন, শিখন কেন্দ্র ভাড়া, প্রোগ্রাম সুপারভাইজার ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন প্রদান করা হয়ে থাকে। তবে গত ডিসেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত শিক্ষক, সুপারভাইজার ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন প্রদান করা হয়েছে। ডিসেম্বর ২০২৩ এর পর হতে অদ্যাবধি উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো হতে কোন অর্থ ছাড় করা হয়নি। ফলে সংস্থা থেকে শিখন কেন্দ্রের ঘর ভাড়াসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য ব্যয় মেটানো সম্ভব হলেও শিক্ষক, সুপারভাইজার ও কর্মকর্তা-কর্মচারী ৮ মাস যাবৎ বেতন বঞ্চিত রয়েছেন। তবে এসব শিখন কেন্দ্রগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের দেওয়া বিনামূল্যে বই, পেন্সিল, খাতা, চক, ডাস্টার স্কুল ব্যাগ, ড্রেস ইত্যাদি সরবরাহ করে পাঠদান অব্যাহত রেখেছে। শিক্ষার্থীরা গ্রেড পরিবর্তন পরীক্ষার মাধ্যমে পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত হচ্ছে। এ অবস্থায় তারা নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা করলেও গত ৮ মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় কারণে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

গলাচিপা উপজেলার প্রোগ্রাম সুপারভাইজার মোঃ বাহাউদ্দিন বলেন, এই চাকরি আমার একমাত্র অবলম্বন। গত আট মাস বেতন না পাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছি। দোকানিরাও আর বাকি দিচ্ছে না, এমনকি বাকি টাকার জন্য চাপ দিচ্ছেন, আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকেও টাকা ধার পাচ্ছি না। এ অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের ভরণ-পোষণে অসহায় হয়ে পড়েছি।

এ বিষয়ে পটুয়াখালীর লিড এনজিও পিডিও এর নির্বাহী পরিচালক জনাব মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, সরকারি বরাদ্দের অর্থ ছাড়ে দীর্ঘ সূত্রতা থাকলেও পিডিও (পীস এন্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গনাইজেশন) কর্মসূচি নীতিমালা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করে চলেছে। শিখন কেন্দ্রের সব শিক্ষা উপকরণ থেকে শুরু করে নিজ খরচে শিক্ষার্থীদের কোর্স মূল্যায়ন পরীক্ষা গ্রহণ সহ কর্মসুচিকে গতিশীল রাখা হচ্ছে। এমতাবস্থায়, কার্যক্রমটি সফলতার সাথে সম্পন্নের জন্য অতি দ্রুত অর্থ ছাড় হওয়া প্রয়োজন। কর্মসূচির সফল সমাপ্তির লক্ষ্যে সকল শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক শিক্ষাচক্র কোর্স সমাপ্তি ও শিক্ষার্থীদের মূলস্রোতধারায় ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য কর্মসূচি ২৫ জুন ২০২৫ পর্যন্ত চলমান রাখা আবশ্যক।

পটুয়াখালী জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো’র সহকারী পরিচালক (অঃ দাঃ) জনাব মোঃ মফিজুল ইসলাম বলেন, অর্থ প্রাপ্তিতে বিলম্ব হলেও এ জেলায় বাস্তবায়ন নির্দেশিকা অনুযায়ী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৭ টি উপজেলার ইন্ডিপেন্ডেন্ট ভেরিফিকেশন এজেন্সী কর্তৃক (আইভা) সম্পন্ন হয়েছে। যে সকল শিক্ষার্থী উপবৃত্তি পাইনি তাদের তথ্য হালনাগাদ করে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো’তে প্রেরণ করা হয়েছে। অর্থ ছাড় হলে মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Tag:

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সেইভ করুন:

আমাদের সম্পর্কে জানুন:

South BD News 24

South BD News 24 is committed to publish the daily news of South Bengal based on authenticity, honesty and courage...

দশমিনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর ভূমি জবর দখলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল

“আউট অব স্কুল চিলড্রেন” শিক্ষা কর্মসূচি; ৮ মাস ধরে বেতন ভাতা পাচ্ছে না ৫ হাজার টাকা বেতনের ৬শ শিক্ষক কর্মচারী

আপডেট সময়: ১২:২৬:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪

মোঃ মেহেদী হাসান (বাচ্চু), পটুয়াখালীঃ আট মাস ধরে বেতন ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো’র আওতায় পরিচালিত চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) এর ‘আউট অব স্কুল চিলড্রেন’ শিক্ষা কর্মসূচির পটুয়াখালী জেলায় কর্মরত ৬ (ছয়) শতাধিক শিক্ষক, সুপারভাইজার ও কর্মকর্তারা। অজানা কারণে গত জানুয়ারি হতে আগষ্ট ২০২৪ পর্যন্ত আট মাস যাবৎ বেতন পাচ্ছেন না এই প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পটুয়াখালী জেলায় পিডিও (পীস এন্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো’র সহযোগিতায় পিইডিপি-৪ এর সাব-কম্পোনেন্ট ২.৫ ‘আউট অব স্কুল চিলড্রেন’ শিক্ষা কর্মসূচি’ বাস্তবায়ন করছে। দেশে শতভাগ শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ কর্মসূচিতে ৮-১৪ বছর বয়সী (বিদ্যালয় বহির্ভূত বা ঝরে পড়া কিংবা কখনো বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়নি) এমন মোট ১৬,৮০০ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষাচক্রে ভর্তি করা হয়েছে।

পিডিও এর জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তাগণ জানান, পটুয়াখালী জেলার ৮ উপজেলায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে জরীপের ভিত্তিতে এ জেলায় ৫৬০টি শিখন কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে ১৬ হাজার ৮০০ জন শিক্ষার্থীকে উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা ৪র্থ শ্রেণিতে লেখাপড়া করছে। চলমান কর্মসূচিতে ৫৬০ জন শিক্ষক, ৪০ জন প্রোগ্রাম সুপারভাইজার, ৮ জন উপজেলা প্রোগ্রাম ম্যানেজার, ৪ জন জেলা কর্মকর্তা ও ১ জন অফিস সহায়ক কর্মরত রয়েছেন। কর্মসূচি বাস্তবায়ন কৌশল অনুযায়ী উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো হতে প্রাপ্ত বরাদ্দের আলোকে পিডিও কর্তৃক ‘আউট অব স্কুল চিলড্রেন’ শিক্ষা কর্মসূচির শিক্ষকদের বেতন, শিখন কেন্দ্র ভাড়া, প্রোগ্রাম সুপারভাইজার ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন প্রদান করা হয়ে থাকে। তবে গত ডিসেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত শিক্ষক, সুপারভাইজার ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন প্রদান করা হয়েছে। ডিসেম্বর ২০২৩ এর পর হতে অদ্যাবধি উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো হতে কোন অর্থ ছাড় করা হয়নি। ফলে সংস্থা থেকে শিখন কেন্দ্রের ঘর ভাড়াসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য ব্যয় মেটানো সম্ভব হলেও শিক্ষক, সুপারভাইজার ও কর্মকর্তা-কর্মচারী ৮ মাস যাবৎ বেতন বঞ্চিত রয়েছেন। তবে এসব শিখন কেন্দ্রগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের দেওয়া বিনামূল্যে বই, পেন্সিল, খাতা, চক, ডাস্টার স্কুল ব্যাগ, ড্রেস ইত্যাদি সরবরাহ করে পাঠদান অব্যাহত রেখেছে। শিক্ষার্থীরা গ্রেড পরিবর্তন পরীক্ষার মাধ্যমে পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত হচ্ছে। এ অবস্থায় তারা নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা করলেও গত ৮ মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় কারণে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

গলাচিপা উপজেলার প্রোগ্রাম সুপারভাইজার মোঃ বাহাউদ্দিন বলেন, এই চাকরি আমার একমাত্র অবলম্বন। গত আট মাস বেতন না পাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছি। দোকানিরাও আর বাকি দিচ্ছে না, এমনকি বাকি টাকার জন্য চাপ দিচ্ছেন, আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকেও টাকা ধার পাচ্ছি না। এ অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের ভরণ-পোষণে অসহায় হয়ে পড়েছি।

এ বিষয়ে পটুয়াখালীর লিড এনজিও পিডিও এর নির্বাহী পরিচালক জনাব মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, সরকারি বরাদ্দের অর্থ ছাড়ে দীর্ঘ সূত্রতা থাকলেও পিডিও (পীস এন্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গনাইজেশন) কর্মসূচি নীতিমালা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করে চলেছে। শিখন কেন্দ্রের সব শিক্ষা উপকরণ থেকে শুরু করে নিজ খরচে শিক্ষার্থীদের কোর্স মূল্যায়ন পরীক্ষা গ্রহণ সহ কর্মসুচিকে গতিশীল রাখা হচ্ছে। এমতাবস্থায়, কার্যক্রমটি সফলতার সাথে সম্পন্নের জন্য অতি দ্রুত অর্থ ছাড় হওয়া প্রয়োজন। কর্মসূচির সফল সমাপ্তির লক্ষ্যে সকল শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক শিক্ষাচক্র কোর্স সমাপ্তি ও শিক্ষার্থীদের মূলস্রোতধারায় ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য কর্মসূচি ২৫ জুন ২০২৫ পর্যন্ত চলমান রাখা আবশ্যক।

পটুয়াখালী জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো’র সহকারী পরিচালক (অঃ দাঃ) জনাব মোঃ মফিজুল ইসলাম বলেন, অর্থ প্রাপ্তিতে বিলম্ব হলেও এ জেলায় বাস্তবায়ন নির্দেশিকা অনুযায়ী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৭ টি উপজেলার ইন্ডিপেন্ডেন্ট ভেরিফিকেশন এজেন্সী কর্তৃক (আইভা) সম্পন্ন হয়েছে। যে সকল শিক্ষার্থী উপবৃত্তি পাইনি তাদের তথ্য হালনাগাদ করে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো’তে প্রেরণ করা হয়েছে। অর্থ ছাড় হলে মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।