০৫:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইজরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের

সাউথ বিডি নিউজ ২৪ ডেস্কঃ গাজায় ইসরাইলের বর্বরতায় আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুসহ আরও কয়েকজন মন্ত্রী ও ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সিনিয়র কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেদারল্যান্ডসে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। শিগগিরই এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হতে পরে বলে বিশেষ সূত্রে জানা গেছে। সম্ভাব্য এ পদক্ষেপ ঠেকাতে এজন্য সম্প্রতি নিজ কার্যালয়ে জরুরী সভা ডেকেছিলেন নেতানিয়াহু।

ইসরাইলের বর্তমান যুদ্ধকালীন বিশেষ মন্ত্রিসভার বিচার বিষয়ক মন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিন, স্ট্র্যাটেজিক অ্যাফেয়ার্স বিষয়কমন্ত্রী রন ডারমার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ এবং সরকারপন্থী বেশ কয়েকজন আইনজীবী এবং আইন বিশেষজ্ঞগণ উপস্থিতি ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে এ বৈঠক হয়েছিলো বলে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইলকে নিশ্চিত করেছে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তর।

বুধবার জেরুজালেম সফরে গিয়েছিলেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যানালিনা বেয়ারবক। তাদের সঙ্গে বৈঠকের সময়ও আইসিসির সম্ভাব্য গ্রেফতারি পরোনার প্রসঙ্গটি নেতানিয়াহু তুলেছিলেন বলে জানা গেছে। পরোয়ানা ঠেকাতে এ দুই দেশের সরকারের সহযোগিতাও চেয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হামাস এবং আইডিএফের (ইসরাইলি ডিফেন্স ফোর্স) মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছিলো। সে যুদ্ধে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধগুলো নিয়ে ২০১৯ সালে তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেয় আইসিসি। পরে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে প্রায় দেড় বছর এই কাজ স্থগিত থাকার পর ২০২১ সালের ২৩ মার্চ ফের তদন্ত শুরু করে আইসিসি।

সেই তদন্তের অংশ হিসেবে গত ডিসেম্বরে ইসরাইল সফরে এসেছিলেন আইসিসির শীর্ষ প্রসিকিউটর করিম খান। ইসরাইলি প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর আপত্তির কারণে গাজা সফরে যেতে পারেননি তিনি। তবে ওই সফর শেষে ফিরে যাওয়ার আগে তিনি বলেছিলেন, গত ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা এবং তার জবাবে ইসরাইলি বাহিনীর অভিযান কোনো স্বতঃস্ফূর্ত ঘটনা নয় এবং যেসব সহিংসতা পূর্বে হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে, সেসব হামাস এবং আইডিএফের পূর্ব পরিকল্পিত বলে তিনি মনে করছেন। এ সংক্রান্ত কিছু প্রমাণও তার হাতে রয়েছে বলে উল্লেখ করেছিলেন তিনি। করিম খানের সফরের তিন মাস পরে এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রক্রিয়া আইসিসি শুরু করেছে বলে জানা গেছে, যা নিয়ে চিন্তায় পড়েছে ইসরাইল সরকার।

Tag:

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সেইভ করুন:

আমাদের সম্পর্কে জানুন:

South BD News 24

South BD News 24 is committed to publish the daily news of South Bengal based on authenticity, honesty and courage...
জনপ্রিয়

জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ উপলক্ষে পটুয়াখালীর টাউন বহালগাছিয়া সঃ প্রাঃ স্কুলে চিত্রাংকন ও স্কুল ফিডিং অনুষ্ঠিত 

error: Content is protected !!

ইজরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের

আপডেট সময়: ০৪:২৬:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪

সাউথ বিডি নিউজ ২৪ ডেস্কঃ গাজায় ইসরাইলের বর্বরতায় আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুসহ আরও কয়েকজন মন্ত্রী ও ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সিনিয়র কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেদারল্যান্ডসে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। শিগগিরই এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হতে পরে বলে বিশেষ সূত্রে জানা গেছে। সম্ভাব্য এ পদক্ষেপ ঠেকাতে এজন্য সম্প্রতি নিজ কার্যালয়ে জরুরী সভা ডেকেছিলেন নেতানিয়াহু।

ইসরাইলের বর্তমান যুদ্ধকালীন বিশেষ মন্ত্রিসভার বিচার বিষয়ক মন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিন, স্ট্র্যাটেজিক অ্যাফেয়ার্স বিষয়কমন্ত্রী রন ডারমার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ এবং সরকারপন্থী বেশ কয়েকজন আইনজীবী এবং আইন বিশেষজ্ঞগণ উপস্থিতি ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে এ বৈঠক হয়েছিলো বলে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইলকে নিশ্চিত করেছে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তর।

বুধবার জেরুজালেম সফরে গিয়েছিলেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যানালিনা বেয়ারবক। তাদের সঙ্গে বৈঠকের সময়ও আইসিসির সম্ভাব্য গ্রেফতারি পরোনার প্রসঙ্গটি নেতানিয়াহু তুলেছিলেন বলে জানা গেছে। পরোয়ানা ঠেকাতে এ দুই দেশের সরকারের সহযোগিতাও চেয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হামাস এবং আইডিএফের (ইসরাইলি ডিফেন্স ফোর্স) মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছিলো। সে যুদ্ধে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধগুলো নিয়ে ২০১৯ সালে তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেয় আইসিসি। পরে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে প্রায় দেড় বছর এই কাজ স্থগিত থাকার পর ২০২১ সালের ২৩ মার্চ ফের তদন্ত শুরু করে আইসিসি।

সেই তদন্তের অংশ হিসেবে গত ডিসেম্বরে ইসরাইল সফরে এসেছিলেন আইসিসির শীর্ষ প্রসিকিউটর করিম খান। ইসরাইলি প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর আপত্তির কারণে গাজা সফরে যেতে পারেননি তিনি। তবে ওই সফর শেষে ফিরে যাওয়ার আগে তিনি বলেছিলেন, গত ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা এবং তার জবাবে ইসরাইলি বাহিনীর অভিযান কোনো স্বতঃস্ফূর্ত ঘটনা নয় এবং যেসব সহিংসতা পূর্বে হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে, সেসব হামাস এবং আইডিএফের পূর্ব পরিকল্পিত বলে তিনি মনে করছেন। এ সংক্রান্ত কিছু প্রমাণও তার হাতে রয়েছে বলে উল্লেখ করেছিলেন তিনি। করিম খানের সফরের তিন মাস পরে এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রক্রিয়া আইসিসি শুরু করেছে বলে জানা গেছে, যা নিয়ে চিন্তায় পড়েছে ইসরাইল সরকার।