১০:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পটুয়াখালীতে পৈতৃক জমি দখলের অভিযোগ, প্রতিকার ও ন্যায়বিচার চেয়ে দিনমজুর পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম হেতালিয়া গ্রামে একটি দিনমজুর পরিবারের পৈতৃক জমি দখলে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। জমি উদ্ধারে স্থানীয়ভাবে সালিশ, থানা পুলিশ ও ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় জমির অধিকার ফিরে পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পরিবারের সদস্য মো. আলতাফ খান।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় পটুয়াখালী পৌর শহরের মল্লিকা রেস্তোরাঁর দ্বিতীয় তলায় রিপোর্টার্স ইউনিটি ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

লিখিত বক্তব্যে আলতাফ খান দাবি করেন, তাঁদের পূর্বপুরুষ মৃত জলে খাঁ ও বশরত খাঁ সাবেক সিএস পর্চার ৫৯ নম্বর খতিয়ানের ২২৬, ২১৬, ২২৭ ও ২২৯ নম্বর দাগের জমির মালিক ছিলেন। তাঁদের মৃত্যুর পর ওয়ারিশ সূত্রে আলতাফ খান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ওই সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে আসছেন।

আলতাফ খানের অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি—মো. মিজানুর রহমান, ইদ্রিস আকন, খালেক আকন, সেরাজ আকন ও বেল্লাল আকনসহ অন্যরা তাঁদের পৈতৃক জমি দখলে রেখেছেন। এ নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করেও তাঁরা কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আলতাফ খান বলেন, তাঁরা দিনমজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষরা আর্থিকভাবে সচ্ছল ও প্রভাবশালী হওয়ায় নিজেদের জমির অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে তাঁরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। জমির দাবি নিয়ে কথা বললে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আলতাফ খানের আরও অভিযোগ, বিবাদীদের একজন মো. মিজানুর রহমান পটুয়াখালী আইনজীবী সমিতিতে আইনজীবী সহকারী (মুহুরি) হিসেবে কাজ করেন। এ কারণে জমিসংক্রান্ত বিরোধের সমাধান নিয়ে তাঁরা নানা জটিলতার মুখে পড়ছেন বলে দাবি করেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, সেটেলমেন্ট অফিসের জরিপের সময় নথিপত্র পর্যালোচনায় বিবাদীদের মালিকানার পক্ষে বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি বলে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি। প্রকৃত ওয়ারিশদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে জমি ভোগদখলে রাখার অভিযোগও তোলেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে, এ বিষয়ে অন্যতম অভিযুক্ত মো. মিজানুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট জমি ১৯১২ সালে নিলামে বিক্রি হয়। পরে অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে জমিটি তাঁর বাবার কাছে বিক্রি করা হয়। ফলে জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

মিজানুর রহমান আরও বলেন, “জমির সিএস, আরএস ও অন্যান্য রেকর্ড আমাদের নামে রয়েছে। তাঁদের কোনো অভিযোগ থাকলে সালিশের মাধ্যমে অথবা আইনের আশ্রয় নিয়ে সমাধান করতে পারেন। আইনের দুয়ার সবার জন্য খোলা।”

সংবাদ সম্মেলনে আলতাফ খান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিরোধ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Tag:
জনপ্রিয়

ডেইলি স্টার এর প্রতিনিধি পটুয়াখালীর সিনিয়র সাংবাদিক সোহরাব হোসেন আর নেই, কাল সকাল ১০টায় জানাজা

পটুয়াখালীতে পৈতৃক জমি দখলের অভিযোগ, প্রতিকার ও ন্যায়বিচার চেয়ে দিনমজুর পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময়: ০৭:২৫:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম হেতালিয়া গ্রামে একটি দিনমজুর পরিবারের পৈতৃক জমি দখলে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। জমি উদ্ধারে স্থানীয়ভাবে সালিশ, থানা পুলিশ ও ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় জমির অধিকার ফিরে পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পরিবারের সদস্য মো. আলতাফ খান।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় পটুয়াখালী পৌর শহরের মল্লিকা রেস্তোরাঁর দ্বিতীয় তলায় রিপোর্টার্স ইউনিটি ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

লিখিত বক্তব্যে আলতাফ খান দাবি করেন, তাঁদের পূর্বপুরুষ মৃত জলে খাঁ ও বশরত খাঁ সাবেক সিএস পর্চার ৫৯ নম্বর খতিয়ানের ২২৬, ২১৬, ২২৭ ও ২২৯ নম্বর দাগের জমির মালিক ছিলেন। তাঁদের মৃত্যুর পর ওয়ারিশ সূত্রে আলতাফ খান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ওই সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে আসছেন।

আলতাফ খানের অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি—মো. মিজানুর রহমান, ইদ্রিস আকন, খালেক আকন, সেরাজ আকন ও বেল্লাল আকনসহ অন্যরা তাঁদের পৈতৃক জমি দখলে রেখেছেন। এ নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করেও তাঁরা কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আলতাফ খান বলেন, তাঁরা দিনমজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষরা আর্থিকভাবে সচ্ছল ও প্রভাবশালী হওয়ায় নিজেদের জমির অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে তাঁরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। জমির দাবি নিয়ে কথা বললে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আলতাফ খানের আরও অভিযোগ, বিবাদীদের একজন মো. মিজানুর রহমান পটুয়াখালী আইনজীবী সমিতিতে আইনজীবী সহকারী (মুহুরি) হিসেবে কাজ করেন। এ কারণে জমিসংক্রান্ত বিরোধের সমাধান নিয়ে তাঁরা নানা জটিলতার মুখে পড়ছেন বলে দাবি করেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, সেটেলমেন্ট অফিসের জরিপের সময় নথিপত্র পর্যালোচনায় বিবাদীদের মালিকানার পক্ষে বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি বলে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি। প্রকৃত ওয়ারিশদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে জমি ভোগদখলে রাখার অভিযোগও তোলেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে, এ বিষয়ে অন্যতম অভিযুক্ত মো. মিজানুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট জমি ১৯১২ সালে নিলামে বিক্রি হয়। পরে অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে জমিটি তাঁর বাবার কাছে বিক্রি করা হয়। ফলে জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

মিজানুর রহমান আরও বলেন, “জমির সিএস, আরএস ও অন্যান্য রেকর্ড আমাদের নামে রয়েছে। তাঁদের কোনো অভিযোগ থাকলে সালিশের মাধ্যমে অথবা আইনের আশ্রয় নিয়ে সমাধান করতে পারেন। আইনের দুয়ার সবার জন্য খোলা।”

সংবাদ সম্মেলনে আলতাফ খান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিরোধ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।