০৪:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মালামাল কেনা ও ছেলের চিকিৎসা হলোনা আর; বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেলো মির্জাগঞ্জের বাসিন্দা বাবা ও ছেলের

ছেলের চিকিৎসা করানো আর নিজের কাপড়ের দোকানের জন্য নতুন মালামাল কেনা—এই দুই লক্ষ্য নিয়ে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থেকে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন ব্যবসায়ী আবু জাফর মৃধা। কিন্তু পথের মাঝেই ওত পেতে থাকা এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিল তাঁর এবং তাঁর কিশোর ছেলের প্রাণ।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার বাখরেকান্দি পুনর্বাসন কেন্দ্রসংলগ্ন মাদবরের কান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই শোকার্ত ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আবু জাফর মৃধা (৫৫) এবং তাঁর সন্তান অনিক মৃধা (১৪)। অনিক স্থানীয় মির্জাগঞ্জ আইডিয়াল স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। আর জাফর মৃধা উপজেলা সদরের সুবিদখালী নান্নু শপিং কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে একটি তৈরি পোশাকের দোকান পরিচালনা করে আসছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে ছেলেকে সাথে নিয়ে হানিফ পরিবহনের একটি বাসে চড়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন জাফর মৃধা। পথিমধ্যে মাদারীপুরের শিবচর এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে পালকি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের চাকা পাংচার হয়ে যায়। চালক ও তাঁর সহকারী মহাসড়কের পাশে গাড়িটি থামিয়ে চাকা মেরামতের কাজ করছিলেন। এই সময় বরগুনা থেকে ঢাকাগামী দ্রুতগতির হানিফ পরিবহনের বাসটি আকস্মিকভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং দাঁড়িয়ে থাকা পালকি পরিবহনের বাসটিকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়।

ধাক্কার তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, দুটি বাসেরই সম্মুখ এবং পেছনের অংশ মারাত্মকভাবে দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ব্যবসায়ী আবু জাফর মৃধা ও তাঁর ছেলে অনিকসহ তিনজন যাত্রী প্রাণ হারান। এই ঘটনায় বাসে থাকা অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করে মাদারীপুর জেলার শিবচর হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাকিল আহম্মেদ জানান, “সংবাদ পাওয়ার পরপরই হাইওয়ে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। তারা স্থানীয়দের সহায়তায় হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। নিহত তিনজনের মধ্যে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের বাবা-ছেলেও রয়েছেন।”

এদিকে মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, “তাঁরা শিবচর হাইওয়ে থানার ওসির সাথে এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। ময়নাতদন্তের যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ দুটি দ্রুত স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে।”

একই সাথে বাবা-ছেলের এমন আকস্মিক ও বেদনাদায়ক মৃত্যুতে মির্জাগঞ্জ উপজেলাজুড়ে এবং বিশেষ করে সুবিদখালী নান্নু শপিং কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মার্কেটের স্বত্বাধিকারী ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাহাবুদ্দিন নান্নু মুন্সী গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “জাফর মৃধা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের মার্কেটে অত্যন্ত সুনামের সাথে ব্যবসা করে আসছিলেন। সকালে ছেলের চিকিৎসা ও দোকানের মালামাল কেনার কথা বলে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু পথেই তাঁদের জীবন প্রদীপ নিভে গেল। এই অকাল ও নির্মম মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়।”

Tag:
জনপ্রিয়

আমতলী থেকে উদ্ধার করা ১৪টি পদ্মপোখরা সাপ কুয়াকাটার বনে অবমুক্ত করলো Animal Lovers of Patuakhali

মালামাল কেনা ও ছেলের চিকিৎসা হলোনা আর; বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেলো মির্জাগঞ্জের বাসিন্দা বাবা ও ছেলের

আপডেট সময়: ১০:২৭:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছেলের চিকিৎসা করানো আর নিজের কাপড়ের দোকানের জন্য নতুন মালামাল কেনা—এই দুই লক্ষ্য নিয়ে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থেকে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন ব্যবসায়ী আবু জাফর মৃধা। কিন্তু পথের মাঝেই ওত পেতে থাকা এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিল তাঁর এবং তাঁর কিশোর ছেলের প্রাণ।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার বাখরেকান্দি পুনর্বাসন কেন্দ্রসংলগ্ন মাদবরের কান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই শোকার্ত ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আবু জাফর মৃধা (৫৫) এবং তাঁর সন্তান অনিক মৃধা (১৪)। অনিক স্থানীয় মির্জাগঞ্জ আইডিয়াল স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। আর জাফর মৃধা উপজেলা সদরের সুবিদখালী নান্নু শপিং কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে একটি তৈরি পোশাকের দোকান পরিচালনা করে আসছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে ছেলেকে সাথে নিয়ে হানিফ পরিবহনের একটি বাসে চড়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন জাফর মৃধা। পথিমধ্যে মাদারীপুরের শিবচর এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে পালকি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের চাকা পাংচার হয়ে যায়। চালক ও তাঁর সহকারী মহাসড়কের পাশে গাড়িটি থামিয়ে চাকা মেরামতের কাজ করছিলেন। এই সময় বরগুনা থেকে ঢাকাগামী দ্রুতগতির হানিফ পরিবহনের বাসটি আকস্মিকভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং দাঁড়িয়ে থাকা পালকি পরিবহনের বাসটিকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়।

ধাক্কার তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, দুটি বাসেরই সম্মুখ এবং পেছনের অংশ মারাত্মকভাবে দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ব্যবসায়ী আবু জাফর মৃধা ও তাঁর ছেলে অনিকসহ তিনজন যাত্রী প্রাণ হারান। এই ঘটনায় বাসে থাকা অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করে মাদারীপুর জেলার শিবচর হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাকিল আহম্মেদ জানান, “সংবাদ পাওয়ার পরপরই হাইওয়ে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। তারা স্থানীয়দের সহায়তায় হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। নিহত তিনজনের মধ্যে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের বাবা-ছেলেও রয়েছেন।”

এদিকে মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, “তাঁরা শিবচর হাইওয়ে থানার ওসির সাথে এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। ময়নাতদন্তের যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ দুটি দ্রুত স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে।”

একই সাথে বাবা-ছেলের এমন আকস্মিক ও বেদনাদায়ক মৃত্যুতে মির্জাগঞ্জ উপজেলাজুড়ে এবং বিশেষ করে সুবিদখালী নান্নু শপিং কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মার্কেটের স্বত্বাধিকারী ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাহাবুদ্দিন নান্নু মুন্সী গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “জাফর মৃধা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের মার্কেটে অত্যন্ত সুনামের সাথে ব্যবসা করে আসছিলেন। সকালে ছেলের চিকিৎসা ও দোকানের মালামাল কেনার কথা বলে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু পথেই তাঁদের জীবন প্রদীপ নিভে গেল। এই অকাল ও নির্মম মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়।”