পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চর কাজল ইউনিয়নে বৃষ্টিতে মাছের ঘের তলিয়ে যাওয়ায় পানি নামাতে স্কুলের মাঠ কেটে ‘ক্যানেল’ করার অভিযোগ ইউপি মেম্বারের বিরুদ্ধে। পানির চাপে প্রতিনিয়ত স্কুল মাঠের মাটি স্রোতে ভেসে যাচ্ছে। ফলে যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরণের দুর্ঘটনা। অপরদিকে ওই স্কুলটির কোমলমতি শিশুদের যাতায়াতসহ নানা দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ ক্যানেলটি কাটা হয়েছে রবিবার। এ ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ঘটনাস্থলে প্রতিনিধি দল পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজর মো. ইজাজুল হক।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গলাচিপা উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট শিবা টিলা এলাকায় বেড়িবাঁধের ডোবায় দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করে আসছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সফিকুল ইসলাম সবুজ জোমাদ্দার। গত কয়েকদিন ধরে মৌসুমী বৃষ্টি হওয়ায় ইউপি সদস্য সবুজের নিয়ন্ত্রণাধীন ঘেরটি অতিবৃষ্টির কারণে তলিয়ে যায়। ঘেরের পানি নামাতে ছোট শিবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরান ভবনের সামনে দিয়ে মাঠসহ প্রায় দুই শ ফুট জায়গা-রাস্তা কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়। এতে করে ওই স্কুলটি মাঠ ও যাতায়াত ব্যবস্থা চরম ঝুঁকিতে পড়ে যায়। এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানায়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোমবার সার্ভেয়ারসহ একটি প্রতিনিধি দল স্কুল মাঠ পরিদর্শনে পাঠিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে ছোট শিবা গ্রামের বাসিন্দা মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, “মেম্বারের মালিকানাধীন মাছের ঘেরের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে পানি নিষ্কাশনের জায়গা ছিলো। আগে ওয়াবদা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি নিষ্কাশন করা হতো। কিন্তু এবছর পানি নিষ্কাশনের পাইপটি নষ্ট থাকায় হয়তো তারা স্কুল মাঠ দিয়ে পানি নিষ্কাশন করছেন। এভাবে গায়ের জোরে স্কুলের মাঠ নষ্ট করা তাদের উচিৎ হয়নি।” তিনি আরো জানান, “মাছের ঘেরের সাথে ওই এলাকার ইউপি সদস্য সবুজ জোমাদ্দার, ছোট শিবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাহবুব আলম, স্থানীয় সবুজ গাজী, সাইদুল চাপরাশী, ফারুক শরীফসহ বেশ কয়েকজন জড়িত।”
এ প্রসঙ্গে ছোট শিবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুব আলম বলেন, “গত কাল (রবিবার) আমি স্কুলে ছিলাম না। ওই সময় ইউপি সদস্য সবুজ জোমাদ্দার স্কুলের মাঠ কেটে পানি নিষ্কাশন করেন। আজ আবার ‘ক্যানেলটি’ পুণরায় মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে।” এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ওই ঘেরে যাদের জমি আছে তাদের সবারই শেয়ার রয়েছে। ওই হিসেবে আমিও ঘেরের শেয়ার।”
এ বিষয়ে চরকাজল ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম সবুজ জোমাদ্দারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
ঘটনা সম্পর্কে চরকাজল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান মোল্লা বলেন, “স্কুল মাঠ কেটে পানি নিষ্কাশনের খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যাই। আজ (সোমবার) মাটি দিয়ে আবার মাঠটি সংস্কার করা হয়েছে।” তিনি আরো বলেন, “বছর দুইয়েক আগেই এ স্কুলের মাঠটিতে দুই লক্ষাধিক টাকার মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়েছিল। জলাবদ্ধতার বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদে জানালে স্কুলের মাঠ না কেটে আমরা ভিন্নভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে দিতে পারতাম।”
এ প্রসঙ্গে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, “ওই স্কুলটিতে সার্ভেয়ারসহ একটি টিম পাঠিয়েছি। বিষয়টি বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী: 











