০৩:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পটুয়াখালীতে মোহসেনুদ্দিন নুরিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষের সংবাদ সম্মেলন

  • জালাল আহমেদ:
  • আপডেট সময়: ০৬:৪৯:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • ৫৬ বার পড়া হয়েছে

পটুয়াখালীতে মোহসেনুদ্দিন নূরিয়া ফাযিল (ডিগ্রি) মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা এম.এ. রহিম এর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করে ভাড়াটিয়া কিছু লোক জড়ো করে মানববন্ধন দেখিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের প্রতিবাদে ও অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উক্ত মাদরাসার অধ্যক্ষসহ শিক্ষক, অভিভাবক ও কমিটির সদস্যদবৃন্দ।  

রবিবার রাত ৮ টায় পটুয়াখালী জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অধ্যক্ষ মাওঃ এম.এ. রহিম বলেন, “অত্র মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মরহুম মুহিউদ্দিন এর পুত্র একজন চাঁদাবাজ, দখলবাজ, প্রতারক।”

মাদরাসায় চাকুরি দেয়ার নাম করে একাধিক জনের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎকারী নুরুদ্দীন আফসারীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, “নুরুদ্দীন আফসারীর বাবা প্রয়াত অধ্যক্ষ মাওলানা মুহিউদ্দিন আফসারী বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়েছিলেন। পরে সেই টাকা ফেরত না দেওয়ায় মানবিক কারণে তিনি (অধ্যক্ষ মাওঃ এমএ রহিম) নিজেই প্রায় ৪ লাখ ৬৬ হাজার ১৯০ টাকা পরিশোধ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, নুরুদ্দীন আফসারী ২০২৪ সালের ৬ জুলাই তার কাছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নুরুদ্দিন কয়েকজন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী সঙ্গে নিয়ে মাদ্রাসায় হামলা চালিয়ে তাকে লাঞ্ছিত এবং এক কর্মচারীকে মারধর করে। এছাড়াও  ২০২৪ সালের ৩ জুলাই অধ্যক্ষের অনুপস্থিতিতে নুরুদ্দীন আফসারী মাদ্রাসার অফিসে প্রবেশ করে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, প্যাড ও বিদ্যুতের তার জোরপূর্বক নিয়ে যান। এ ঘটনা ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বলেও অধ্যক্ষ দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, এতিমখানার নামে থাকা জমি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখল, গাছ বিক্রির অর্থ আত্মসাৎ এবং সরকারি ত্রাণের চাল বরাদ্দ এনে আত্মসাতের মতো ঘটনাও ঘটিয়েছেন নুরুদ্দীন আফসারী।

অধ্যক্ষ দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে নুরুদ্দীন আফসারী বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ৩০ থেকে ৩৫টি অভিযোগ দায়ের করে হয়রানি করে আসছে। তবে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের তদন্তে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন অধ্যক্ষ।

অধ্যক্ষ আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ গ্রহণের অভিযোগে একটি মামলা করা হয়েছে, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। একইভাবে মাদ্রাসার এক কর্মচারীর বিরুদ্ধেও নুরুদ্দীন আফসারী মিথ্যা মামলা করেছেন বলে দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষ বলেন, তিনি কখনো চাকরি দেওয়ার নামে কারও কাছ থেকে অর্থ নেননি। বরং নুরুদ্দীন আফসারী তার নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষ বলেন নুরুউদ্দিন আফসারি ও তার পিতা মরহুম মাওঃ মুহিউদ্দিন আফসারী স্থানীয় আঃ রাজ্জাক তালুকদারের ছেলেকে চাকুরি দেওয়ার কথা বলে ২০১২ সালে এক লক্ষ টাকা গ্রহন করে ছেলেকে চাকুরি দেননি এবং টাকাও ফেরত না দেয়ায় দুই পিতা- পুত্রের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন রাজ্জাক তালুকদার। মামলা নং ৭১/১২। যা স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। 

নুরুদ্দিন আফসারি চাঁদাবাজি, চাকুরি দেয়ার নাম করে টাকা আস্মসাৎ, খেপুপাড়া টিয়াখালী এতিমখানার নামে  ৮০ কড়া, আতোষখালী মৌজায় ৪৫ কড়া, মহাশ্রাদ্ধি মৌজায় ১৪ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন জোরপূর্বক ভোগদখল করে আসছে। এমনকি মহাশ্রাদ্ধ ১৪ শতাংশ জমি পার্শ্ববর্তী ব্রিকফিল্ডে ১৫ ফুট গভীর করে মাটি বিক্রিকরে টাকা আত্মসাৎ করেন। এ সব অপকর্মের বিরুদ্ধে কথা বলায় এবং ৮০ বছর  বয়সী অক্ষম, অযোগ্য খিটখিটে মেজাজি শিক্ষক কর্মচারীদের সাথে অশোভন আচরন, বেতন ভাতায় সময়মতো স্বাক্ষর না করে টালবাহানাকারী সভাপতি আঃ রশিদকে সভাপতি পদ থেকে মাদরাসার স্বার্থে  অপসারন করে  স্থানীয় সামাজিক ব্যক্তিত্ব মোঃ রুহুল আমিনকে সভাপতি করায় নুরুদ্দিন আফসারি আমার (অধ্যক্ষ মাওঃ এমএ রহিম) এবং মাদরাসার বিরুদ্ধে কিছু ভাড়াটিয়া লোক দিয়ে মানবন্ধন করে অব্যাহতভাবে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। 

সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসন, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নুরুদ্দীন আফসারীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান অধ্যক্ষ মাওঃ এম এ রহিম। একই সঙ্গে যোগ্যতার ভিত্তিতে মাদরাসায় নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

এ বিষয়ে নুরুদ্দীন আফসারী জানান, “অধ্যক্ষের অভিযোগ মিথ্যা, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযোগ সত্য। সভাপতি আঃ রশিদ এর সভাপতির দায়িত্ব শেষ না হওয়া সত্বেও তাকে সরিয়ে মো. রুহুল আমিনকে অবৈধভাবে সভাপতি করেছেন।”

Tag:

পটুয়াখালীতে মোহসেনুদ্দিন নুরিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষের সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময়: ০৬:৪৯:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

পটুয়াখালীতে মোহসেনুদ্দিন নূরিয়া ফাযিল (ডিগ্রি) মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা এম.এ. রহিম এর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করে ভাড়াটিয়া কিছু লোক জড়ো করে মানববন্ধন দেখিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের প্রতিবাদে ও অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উক্ত মাদরাসার অধ্যক্ষসহ শিক্ষক, অভিভাবক ও কমিটির সদস্যদবৃন্দ।  

রবিবার রাত ৮ টায় পটুয়াখালী জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অধ্যক্ষ মাওঃ এম.এ. রহিম বলেন, “অত্র মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মরহুম মুহিউদ্দিন এর পুত্র একজন চাঁদাবাজ, দখলবাজ, প্রতারক।”

মাদরাসায় চাকুরি দেয়ার নাম করে একাধিক জনের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎকারী নুরুদ্দীন আফসারীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, “নুরুদ্দীন আফসারীর বাবা প্রয়াত অধ্যক্ষ মাওলানা মুহিউদ্দিন আফসারী বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়েছিলেন। পরে সেই টাকা ফেরত না দেওয়ায় মানবিক কারণে তিনি (অধ্যক্ষ মাওঃ এমএ রহিম) নিজেই প্রায় ৪ লাখ ৬৬ হাজার ১৯০ টাকা পরিশোধ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, নুরুদ্দীন আফসারী ২০২৪ সালের ৬ জুলাই তার কাছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নুরুদ্দিন কয়েকজন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী সঙ্গে নিয়ে মাদ্রাসায় হামলা চালিয়ে তাকে লাঞ্ছিত এবং এক কর্মচারীকে মারধর করে। এছাড়াও  ২০২৪ সালের ৩ জুলাই অধ্যক্ষের অনুপস্থিতিতে নুরুদ্দীন আফসারী মাদ্রাসার অফিসে প্রবেশ করে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, প্যাড ও বিদ্যুতের তার জোরপূর্বক নিয়ে যান। এ ঘটনা ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বলেও অধ্যক্ষ দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, এতিমখানার নামে থাকা জমি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখল, গাছ বিক্রির অর্থ আত্মসাৎ এবং সরকারি ত্রাণের চাল বরাদ্দ এনে আত্মসাতের মতো ঘটনাও ঘটিয়েছেন নুরুদ্দীন আফসারী।

অধ্যক্ষ দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে নুরুদ্দীন আফসারী বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ৩০ থেকে ৩৫টি অভিযোগ দায়ের করে হয়রানি করে আসছে। তবে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের তদন্তে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন অধ্যক্ষ।

অধ্যক্ষ আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ গ্রহণের অভিযোগে একটি মামলা করা হয়েছে, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। একইভাবে মাদ্রাসার এক কর্মচারীর বিরুদ্ধেও নুরুদ্দীন আফসারী মিথ্যা মামলা করেছেন বলে দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষ বলেন, তিনি কখনো চাকরি দেওয়ার নামে কারও কাছ থেকে অর্থ নেননি। বরং নুরুদ্দীন আফসারী তার নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষ বলেন নুরুউদ্দিন আফসারি ও তার পিতা মরহুম মাওঃ মুহিউদ্দিন আফসারী স্থানীয় আঃ রাজ্জাক তালুকদারের ছেলেকে চাকুরি দেওয়ার কথা বলে ২০১২ সালে এক লক্ষ টাকা গ্রহন করে ছেলেকে চাকুরি দেননি এবং টাকাও ফেরত না দেয়ায় দুই পিতা- পুত্রের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন রাজ্জাক তালুকদার। মামলা নং ৭১/১২। যা স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। 

নুরুদ্দিন আফসারি চাঁদাবাজি, চাকুরি দেয়ার নাম করে টাকা আস্মসাৎ, খেপুপাড়া টিয়াখালী এতিমখানার নামে  ৮০ কড়া, আতোষখালী মৌজায় ৪৫ কড়া, মহাশ্রাদ্ধি মৌজায় ১৪ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন জোরপূর্বক ভোগদখল করে আসছে। এমনকি মহাশ্রাদ্ধ ১৪ শতাংশ জমি পার্শ্ববর্তী ব্রিকফিল্ডে ১৫ ফুট গভীর করে মাটি বিক্রিকরে টাকা আত্মসাৎ করেন। এ সব অপকর্মের বিরুদ্ধে কথা বলায় এবং ৮০ বছর  বয়সী অক্ষম, অযোগ্য খিটখিটে মেজাজি শিক্ষক কর্মচারীদের সাথে অশোভন আচরন, বেতন ভাতায় সময়মতো স্বাক্ষর না করে টালবাহানাকারী সভাপতি আঃ রশিদকে সভাপতি পদ থেকে মাদরাসার স্বার্থে  অপসারন করে  স্থানীয় সামাজিক ব্যক্তিত্ব মোঃ রুহুল আমিনকে সভাপতি করায় নুরুদ্দিন আফসারি আমার (অধ্যক্ষ মাওঃ এমএ রহিম) এবং মাদরাসার বিরুদ্ধে কিছু ভাড়াটিয়া লোক দিয়ে মানবন্ধন করে অব্যাহতভাবে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। 

সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসন, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নুরুদ্দীন আফসারীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান অধ্যক্ষ মাওঃ এম এ রহিম। একই সঙ্গে যোগ্যতার ভিত্তিতে মাদরাসায় নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

এ বিষয়ে নুরুদ্দীন আফসারী জানান, “অধ্যক্ষের অভিযোগ মিথ্যা, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযোগ সত্য। সভাপতি আঃ রশিদ এর সভাপতির দায়িত্ব শেষ না হওয়া সত্বেও তাকে সরিয়ে মো. রুহুল আমিনকে অবৈধভাবে সভাপতি করেছেন।”