১২:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিল-পাটার আঘা/তে ছেলের হাতে ঘুমন্ত বাবা খু/ন: আ/টক-১

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে মাদকের ভয়াল থাবায় এক পারিবারিক নৃশংসতার ঘটনা ঘটেছে। মাদকাসক্তির জেরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে এক যুবক তার ঘুমন্ত বাবাকে মসলা বাটার শিল-পাটা দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

​শুক্রবার (৩ জুলাই) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার দেউলি সুবিদখালী ইউনিয়নের পূর্ব সুবিদখালী গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

​নিহত ব্যক্তির নাম উত্তম দেবনাথ (৬০)। তিনি ওই এলাকার মৃত মহেন্দ্র দেবনাথের ছেলে এবং পেশায় একজন দিনমজুর ছিলেন। ঘটনার পর পরই অভিযুক্ত ছেলে তাপস দেবনাথ (৪০)-কে আটক করেছে মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশ।

​স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতোই বৃহস্পতিবার রাতে খাবার খেয়ে দিনমজুর উত্তম দেবনাথ ও তার ছেলে তাপস ঘরের ভেতরে ঘুমাতে যান। আর উত্তম দেবনাথের স্ত্রী কানন দেবনাথ ঘরের পেছনের বারান্দায় ঘুমান।

​ভোররাত ৪টার দিকে হঠাৎ তাপস দেবনাথ বিছানা থেকে উঠে ঘরে থাকা মসলা বাটার ভারী শিল-পাটা দিয়ে তার ঘুমন্ত বাবার কপালে সজোরে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই উত্তম দেবনাথের মৃত্যু হয়। এ সময় স্বামীর আত্মচিৎকার শুনে স্ত্রী কানন দেবনাথ দ্রুত ঘরে ছুটে যান এবং রক্তাক্ত ও বীভৎস অবস্থা দেখে চিৎকার করতে করতে প্রতিবেশীদের জানান। পরে প্রতিবেশীরা এসে লাশ দেখে থানায় খবর দেয়।

​স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত তাপস দেবনাথ প্রায় ১৫ বছর আগে স্থানীয় বাজারে চায়ের দোকান চালাতেন এবং এলাকায় ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু ধীরে ধীরে তিনি তীব্র মাদকাসক্তিতে জড়িয়ে পড়েন। অতিরিক্ত মাদক সেবনের কারণে একপর্যায়ে তিনি মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এই মাদকাসক্তি ও মানসিক বিকৃতির কারণে তার স্ত্রী ও সন্তানও তাকে ছেড়ে চলে যায়।

​খবর পেয়ে মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থল থেকেই অভিযুক্ত তাপস দেবনাথকে আটক করে হেফাজতে নেয়।

​মির্জাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “ঘটনাস্থল থেকে আসামিকে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”

Tag:

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সেইভ করুন:

আমাদের সম্পর্কে জানুন:

South BD News 24

South BD News 24 is committed to publish the daily news of South Bengal based on authenticity, honesty and courage...

অবশেষে ধরা পড়ল গলাচিপার দোকান ও পানির মিটার চুরির অভিযুক্ত

শিল-পাটার আঘা/তে ছেলের হাতে ঘুমন্ত বাবা খু/ন: আ/টক-১

আপডেট সময়: ০৬:০৬:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে মাদকের ভয়াল থাবায় এক পারিবারিক নৃশংসতার ঘটনা ঘটেছে। মাদকাসক্তির জেরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে এক যুবক তার ঘুমন্ত বাবাকে মসলা বাটার শিল-পাটা দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

​শুক্রবার (৩ জুলাই) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার দেউলি সুবিদখালী ইউনিয়নের পূর্ব সুবিদখালী গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

​নিহত ব্যক্তির নাম উত্তম দেবনাথ (৬০)। তিনি ওই এলাকার মৃত মহেন্দ্র দেবনাথের ছেলে এবং পেশায় একজন দিনমজুর ছিলেন। ঘটনার পর পরই অভিযুক্ত ছেলে তাপস দেবনাথ (৪০)-কে আটক করেছে মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশ।

​স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতোই বৃহস্পতিবার রাতে খাবার খেয়ে দিনমজুর উত্তম দেবনাথ ও তার ছেলে তাপস ঘরের ভেতরে ঘুমাতে যান। আর উত্তম দেবনাথের স্ত্রী কানন দেবনাথ ঘরের পেছনের বারান্দায় ঘুমান।

​ভোররাত ৪টার দিকে হঠাৎ তাপস দেবনাথ বিছানা থেকে উঠে ঘরে থাকা মসলা বাটার ভারী শিল-পাটা দিয়ে তার ঘুমন্ত বাবার কপালে সজোরে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই উত্তম দেবনাথের মৃত্যু হয়। এ সময় স্বামীর আত্মচিৎকার শুনে স্ত্রী কানন দেবনাথ দ্রুত ঘরে ছুটে যান এবং রক্তাক্ত ও বীভৎস অবস্থা দেখে চিৎকার করতে করতে প্রতিবেশীদের জানান। পরে প্রতিবেশীরা এসে লাশ দেখে থানায় খবর দেয়।

​স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত তাপস দেবনাথ প্রায় ১৫ বছর আগে স্থানীয় বাজারে চায়ের দোকান চালাতেন এবং এলাকায় ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু ধীরে ধীরে তিনি তীব্র মাদকাসক্তিতে জড়িয়ে পড়েন। অতিরিক্ত মাদক সেবনের কারণে একপর্যায়ে তিনি মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এই মাদকাসক্তি ও মানসিক বিকৃতির কারণে তার স্ত্রী ও সন্তানও তাকে ছেড়ে চলে যায়।

​খবর পেয়ে মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থল থেকেই অভিযুক্ত তাপস দেবনাথকে আটক করে হেফাজতে নেয়।

​মির্জাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “ঘটনাস্থল থেকে আসামিকে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”