০১:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভিপি নুরের হলফনামায় মোট সম্পদ ৯০ লাখ টাকা, বার্ষিক আয় ২০ লাখের বেশি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর পেশায় একজন ব্যবসায়ী। হলফনামায় তার মোট সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ৮৯ লাখ ৮২ হাজার ৮৪১ টাকা।

অন্যদিকে তার স্ত্রী মারিয়া আক্তারের মোট সম্পদের পরিমাণ ২ লাখ ৬৬ হাজার ৮১৮ টাকা। স্ত্রীর পেশা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে শিক্ষিকা। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন আদালতে বর্তমানে ৬টি মামলা চলমান রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে কয়েকটি তদন্তাধীন, কয়েকটিতে তিনি এজাহারভুক্ত ও অভিযুক্ত। এছাড়া তিনি পূর্বে ৮টি মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) নুরুল হক নুরের নির্বাচনি হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা যায়।

হলফনামায় উল্লেখ করা হয়, নুরের ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় ১৫ লাখ ৮৫ হাজার ৪২৬ টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে আয় ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৬২২ টাকা। সব মিলিয়ে তার মোট বার্ষিক আয় ২০ লাখ ৪০ হাজার ৪৮ টাকা।

সম্পদের বিবরণীতে দেখা যায়, নুরের নগদ অর্থ রয়েছে ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ২১৭ টাকা। তার স্ত্রীর নগদ অর্থ ৩০ হাজার ৯৪১ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নুরের জমাকৃত অর্থ ২ লাখ ৮৯ হাজার ৩১৩ টাকা এবং স্ত্রীর রয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৭৭ টাকা। কোম্পানি শেয়ারে বিনিয়োগ রয়েছে ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

আসবাবপত্রে স্ত্রীর নামে ১ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত অন্যান্য আমানতের পরিমাণ ৫৫ লাখ ৮০ হাজার ৩১১ টাকা। গহনার কোনো বিবরণ হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি।

ভূমি সম্পদের হিসাবে নুরের নামে ৮২ ডেসিমেল কৃষিজমি রয়েছে, যার অর্জনকালীন মূল্য ৬২ হাজার টাকা। তার স্ত্রী মারিয়া আক্তারের নামে রয়েছে ৩ একর কৃষিজমি, যার মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ১০ লাখ টাকা।

দায় হিসেবে নুরের নামে পাওনাদারের কাছে দেনা রয়েছে ৩ লাখ ৮৮ হাজার ১৬০ টাকা। হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়, তিনি বা তার পরিবারের কেউ কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করেননি।

নুরুল হক নুর ও তার স্ত্রী দুজনই আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। হলফনামা অনুযায়ী, তার বার্ষিক আয় ২০ লাখ ৪০ হাজার ০৪৮ টাকা আর মোট সম্পদের পরিমাণ ৯০ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪১ টাকা। স্ত্রীর বার্ষিক আয় ১ লাখ ৯১ হাজার ৮৮০ টাকা এবং তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৮১৮ টাকা।

পারিবারিক তথ্য হিসেবে হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে-নুরুল হক নুরের তিন সন্তান রয়েছে; দুই মেয়ে ও এক ছেলে। এছাড়া তার ওপর নির্ভরশীল হিসেবে পিতা, মাতা, ভাই ও বোনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসন থেকে ট্রাক প্রতীক নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি গত সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) গলাচিপা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসানের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

জানা গেছে, যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দল হিসেবে আসনটিতে নুরুল হক নুরের সঙ্গে সমঝোতা থাকায় বিএনপি এখানে দলীয় প্রার্থী দেয়নি। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য হাসান মামুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এছাড়া গণঅধিকার পরিষদের আরেক প্রার্থী শহিদুল ইসলাম ফাহিমও এ আসন থেকে মনোনয়ন দাখিল করেছেন।

ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাছাই চলবে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।

Tag:

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সেইভ করুন:

আমাদের সম্পর্কে জানুন:

South BD News 24

South BD News 24 is committed to publish the daily news of South Bengal based on authenticity, honesty and courage...

দশমিনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর ভূমি জবর দখলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল

ভিপি নুরের হলফনামায় মোট সম্পদ ৯০ লাখ টাকা, বার্ষিক আয় ২০ লাখের বেশি

আপডেট সময়: ০৩:৫৯:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর পেশায় একজন ব্যবসায়ী। হলফনামায় তার মোট সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ৮৯ লাখ ৮২ হাজার ৮৪১ টাকা।

অন্যদিকে তার স্ত্রী মারিয়া আক্তারের মোট সম্পদের পরিমাণ ২ লাখ ৬৬ হাজার ৮১৮ টাকা। স্ত্রীর পেশা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে শিক্ষিকা। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন আদালতে বর্তমানে ৬টি মামলা চলমান রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে কয়েকটি তদন্তাধীন, কয়েকটিতে তিনি এজাহারভুক্ত ও অভিযুক্ত। এছাড়া তিনি পূর্বে ৮টি মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) নুরুল হক নুরের নির্বাচনি হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা যায়।

হলফনামায় উল্লেখ করা হয়, নুরের ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় ১৫ লাখ ৮৫ হাজার ৪২৬ টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে আয় ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৬২২ টাকা। সব মিলিয়ে তার মোট বার্ষিক আয় ২০ লাখ ৪০ হাজার ৪৮ টাকা।

সম্পদের বিবরণীতে দেখা যায়, নুরের নগদ অর্থ রয়েছে ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ২১৭ টাকা। তার স্ত্রীর নগদ অর্থ ৩০ হাজার ৯৪১ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নুরের জমাকৃত অর্থ ২ লাখ ৮৯ হাজার ৩১৩ টাকা এবং স্ত্রীর রয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৭৭ টাকা। কোম্পানি শেয়ারে বিনিয়োগ রয়েছে ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

আসবাবপত্রে স্ত্রীর নামে ১ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত অন্যান্য আমানতের পরিমাণ ৫৫ লাখ ৮০ হাজার ৩১১ টাকা। গহনার কোনো বিবরণ হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি।

ভূমি সম্পদের হিসাবে নুরের নামে ৮২ ডেসিমেল কৃষিজমি রয়েছে, যার অর্জনকালীন মূল্য ৬২ হাজার টাকা। তার স্ত্রী মারিয়া আক্তারের নামে রয়েছে ৩ একর কৃষিজমি, যার মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ১০ লাখ টাকা।

দায় হিসেবে নুরের নামে পাওনাদারের কাছে দেনা রয়েছে ৩ লাখ ৮৮ হাজার ১৬০ টাকা। হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়, তিনি বা তার পরিবারের কেউ কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করেননি।

নুরুল হক নুর ও তার স্ত্রী দুজনই আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। হলফনামা অনুযায়ী, তার বার্ষিক আয় ২০ লাখ ৪০ হাজার ০৪৮ টাকা আর মোট সম্পদের পরিমাণ ৯০ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪১ টাকা। স্ত্রীর বার্ষিক আয় ১ লাখ ৯১ হাজার ৮৮০ টাকা এবং তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৮১৮ টাকা।

পারিবারিক তথ্য হিসেবে হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে-নুরুল হক নুরের তিন সন্তান রয়েছে; দুই মেয়ে ও এক ছেলে। এছাড়া তার ওপর নির্ভরশীল হিসেবে পিতা, মাতা, ভাই ও বোনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসন থেকে ট্রাক প্রতীক নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি গত সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) গলাচিপা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসানের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

জানা গেছে, যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দল হিসেবে আসনটিতে নুরুল হক নুরের সঙ্গে সমঝোতা থাকায় বিএনপি এখানে দলীয় প্রার্থী দেয়নি। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য হাসান মামুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এছাড়া গণঅধিকার পরিষদের আরেক প্রার্থী শহিদুল ইসলাম ফাহিমও এ আসন থেকে মনোনয়ন দাখিল করেছেন।

ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাছাই চলবে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।