০১:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

“আপনারা গত আঠারো মাসের মত মবের রাজত্ব চাচ্ছেন। কিন্তু বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সে সুযোগ দিবেন বলে মনে হচ্ছে না।” -আনোয়ার হোসেন বাদল

আমরা সবাই জানি ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি’ শব্দবন্ধে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদ বোঝালেও আক্ষরিক অর্থেই এটি একটি সাংবিধানিক পোস্ট। প্রেসিডেন্টের দৃঢ়তা, ঋজুতা ইত্যাদি নিয়ে প্রশ্ন তোলাই যায় কিন্তু তাঁর ক্ষমতা কী? তিনি কী করতে পারেন? তার পদ যেমন সাংবিধানিক সে পদ ছেড়ে দেয়াটাও তাঁর হাতে থাকেনা, এটাই বাস্তবতা।

ঈদের জামাতে বিরুদ্ধ মতের কিছু তরুন নেতাদের প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বক্তব্য “তিনি খু^নিকে নিয়ে নামাজ পড়তে আসছেন” একদমই অনাকাঙ্ক্ষিত।

আমি এমন অর্বাচীন বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে প্রশ্ন রাখতে চাই-
প্রেসিডেন্ট দলীয় লোক হলেও তাঁকে দলের পদ থেকে বের হয়ে শপথ নিতে হয়। এটাই নিয়ম। আমাদের মনে রাখতে হবে এই পদ সর্বোচ্চ হলেও এটি একটি অর্নামেন্টাল পদ। এই পদধারী মহামান্যের পাশ ফিরে শোবার ইচ্ছে হলেও প্রধান্ত্রীর ইচ্ছে ছাড়া পারেন না। বিরুদ্ধবাদীদের ভাষ্য অনুযায়ী তিনি জুলাইয়ের হ^ত্যা^কারী। কী হাস্যকর আর অসার কথা!

শুনুন আপনারাই বরং আওয়ামী লীগের লুঙ্গির তলে গুপ্ত থেকে তাদের চামচামি করেছেন, অপরাধ করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। ঐ আমলে ভোটাধিকার হরণসহ নানান অপরাধের কারনে তাদের পতন আমরাও চেয়েছি। আমাদের সন্তানদের ন্যায্য আন্দোলন (কোটা/বৈষম্যবিরোধী) আন্দোলনকে দমনের জন্যে বিগত সরকার যখন নিষ্ঠুর থেকে নিষ্ঠুরতম আচরণ শুরু করে তখন আমরাও আমাদের সন্তানদের পাশে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু আপনারা কোমলমতি সন্তানদের ন্যায়সঙ্গত সেই আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করেছেন। ক্ষমতাসীনদের লুঙ্গির তল থেকে হঠাৎ বেরিয়ে এসে আমাদের আন্দোলনের ফসল ছিনতাই করে নিয়েছেন।

তারপর য়ুনুসের ক্ষমতাবলে বলীয়ান হয়ে দীর্ঘ দেড় বছর চালিয়েছেন মবের রাজত্ব। মানুষকে কবর থেকে উঠিয়ে পুড়িয়ে দেয়া থেকে বত্রিশ নম্বর ভাঙা। মানুষ পিটিয়ে মা”রা থেকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলাসহ হেন অপরাধ নেই যা করেন নি।

জুলাই আন্দোলনে আমি নিজেও সন্তানদের পাশে ছিলাম। সেই আমিও চব্বিশের ষোলই ডিসেম্বর পটুয়াখালী শহীদ মিনারের পাশে ছাত্র ইউনিয়ন কর্তৃক আযোজিত একাত্তরের আলোকচিত্র প্রদর্শনী স্টলে মবের শিকার হতে হতে অল্পের জন্যে বেঁচে গিয়েছিলাম। আজ নয়, সে গল্প আরেকদিন লিখবো।

তবে পরিস্কার করেই বলছি, আপনারা যারা প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর একত্রে নামাজ আদায় করাকে নিয়ে প্রশ্ন করছেন সেই আপনারা আসলে জুলাই আন্দোলনের মাথায় নুন রেখে বড়ই খেতে মরিয়া হয়ে আছেন। আপনারা গত আঠারো মাসের মত মবের রাজত্ব চাচ্ছেন। কিন্তু বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সে সুযোগ দিবেন বলে মনে হচ্ছে না।

আনোয়ার হোসেন বাদল
লেখক, কবি ও কথাসাহিত্যিক

Tag:

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সেইভ করুন:

আমাদের সম্পর্কে জানুন:

South BD News 24

South BD News 24 is committed to publish the daily news of South Bengal based on authenticity, honesty and courage...
জনপ্রিয়

“আপনারা গত আঠারো মাসের মত মবের রাজত্ব চাচ্ছেন। কিন্তু বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সে সুযোগ দিবেন বলে মনে হচ্ছে না।” -আনোয়ার হোসেন বাদল

“আপনারা গত আঠারো মাসের মত মবের রাজত্ব চাচ্ছেন। কিন্তু বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সে সুযোগ দিবেন বলে মনে হচ্ছে না।” -আনোয়ার হোসেন বাদল

আপডেট সময়: ১১:২৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

আমরা সবাই জানি ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি’ শব্দবন্ধে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদ বোঝালেও আক্ষরিক অর্থেই এটি একটি সাংবিধানিক পোস্ট। প্রেসিডেন্টের দৃঢ়তা, ঋজুতা ইত্যাদি নিয়ে প্রশ্ন তোলাই যায় কিন্তু তাঁর ক্ষমতা কী? তিনি কী করতে পারেন? তার পদ যেমন সাংবিধানিক সে পদ ছেড়ে দেয়াটাও তাঁর হাতে থাকেনা, এটাই বাস্তবতা।

ঈদের জামাতে বিরুদ্ধ মতের কিছু তরুন নেতাদের প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বক্তব্য “তিনি খু^নিকে নিয়ে নামাজ পড়তে আসছেন” একদমই অনাকাঙ্ক্ষিত।

আমি এমন অর্বাচীন বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে প্রশ্ন রাখতে চাই-
প্রেসিডেন্ট দলীয় লোক হলেও তাঁকে দলের পদ থেকে বের হয়ে শপথ নিতে হয়। এটাই নিয়ম। আমাদের মনে রাখতে হবে এই পদ সর্বোচ্চ হলেও এটি একটি অর্নামেন্টাল পদ। এই পদধারী মহামান্যের পাশ ফিরে শোবার ইচ্ছে হলেও প্রধান্ত্রীর ইচ্ছে ছাড়া পারেন না। বিরুদ্ধবাদীদের ভাষ্য অনুযায়ী তিনি জুলাইয়ের হ^ত্যা^কারী। কী হাস্যকর আর অসার কথা!

শুনুন আপনারাই বরং আওয়ামী লীগের লুঙ্গির তলে গুপ্ত থেকে তাদের চামচামি করেছেন, অপরাধ করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। ঐ আমলে ভোটাধিকার হরণসহ নানান অপরাধের কারনে তাদের পতন আমরাও চেয়েছি। আমাদের সন্তানদের ন্যায্য আন্দোলন (কোটা/বৈষম্যবিরোধী) আন্দোলনকে দমনের জন্যে বিগত সরকার যখন নিষ্ঠুর থেকে নিষ্ঠুরতম আচরণ শুরু করে তখন আমরাও আমাদের সন্তানদের পাশে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু আপনারা কোমলমতি সন্তানদের ন্যায়সঙ্গত সেই আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করেছেন। ক্ষমতাসীনদের লুঙ্গির তল থেকে হঠাৎ বেরিয়ে এসে আমাদের আন্দোলনের ফসল ছিনতাই করে নিয়েছেন।

তারপর য়ুনুসের ক্ষমতাবলে বলীয়ান হয়ে দীর্ঘ দেড় বছর চালিয়েছেন মবের রাজত্ব। মানুষকে কবর থেকে উঠিয়ে পুড়িয়ে দেয়া থেকে বত্রিশ নম্বর ভাঙা। মানুষ পিটিয়ে মা”রা থেকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলাসহ হেন অপরাধ নেই যা করেন নি।

জুলাই আন্দোলনে আমি নিজেও সন্তানদের পাশে ছিলাম। সেই আমিও চব্বিশের ষোলই ডিসেম্বর পটুয়াখালী শহীদ মিনারের পাশে ছাত্র ইউনিয়ন কর্তৃক আযোজিত একাত্তরের আলোকচিত্র প্রদর্শনী স্টলে মবের শিকার হতে হতে অল্পের জন্যে বেঁচে গিয়েছিলাম। আজ নয়, সে গল্প আরেকদিন লিখবো।

তবে পরিস্কার করেই বলছি, আপনারা যারা প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর একত্রে নামাজ আদায় করাকে নিয়ে প্রশ্ন করছেন সেই আপনারা আসলে জুলাই আন্দোলনের মাথায় নুন রেখে বড়ই খেতে মরিয়া হয়ে আছেন। আপনারা গত আঠারো মাসের মত মবের রাজত্ব চাচ্ছেন। কিন্তু বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সে সুযোগ দিবেন বলে মনে হচ্ছে না।

আনোয়ার হোসেন বাদল
লেখক, কবি ও কথাসাহিত্যিক