০১:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দশমিনায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিন বসতঘর পুড়ে ছাই, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে ইউএনও

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিনটি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়ন-এ ঘটনা ঘটে। এতে তিনটি পরিবারের প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কামাল মৃধার রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের বসতঘরগুলোতে। এতে হাবিব মৃধা, জাফর মৃধা ও কামাল মৃধার বসতঘরসহ ঘরে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আগুনে কামাল মৃধার ঘরে থাকা প্রায় ১০টি ছাগলও পুড়ে মারা গেছে।

প্রতিবেশী বিউটি বেগম আগুন দেখতে পেয়ে চিৎকার করে বাড়ির লোকজনকে ডাক দেন। পরে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ান। তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। তিনটি পরিবার প্রায় সর্বস্ব হারিয়েছে। তবে সৌভাগ্যবশত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। উপজেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকবে।

তিনি আরও জানান, তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিটি পরিবারকে নগদ পাঁচ হাজার টাকা করে চেক প্রদান করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে প্রতিটি পরিবারকে ১০০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবারের প্যাকেট ও তিনটি করে কম্বল দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঘর নির্মাণের জন্য দুই বান টিন আগামীকাল পৌঁছে দেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের আবেদন সাপেক্ষে ঘর পুনর্নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদনও পাঠানো হবে।

রনগোপালদী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রুবেল মৃধা বলেন, রাতেই তিনি অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়েছেন। যানবাহনের অভাবে রাতে ঘটনাস্থলে আসতে পারেননি। সকালে এসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সমাজসেবা কর্মকর্তাদের অবহিত করেন। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ১০০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য শাহানাজ বেগম অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী হারুন মৃধা ও তার ছেলে শাকিল মৃধা এ অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়েছে। ঘটনার আগের দিন তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে অভিযুক্ত পক্ষের হারুন মৃধা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে এবং পূর্ব শত্রুতার জেরেই এসব বলা হচ্ছে।

Tag:

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সেইভ করুন:

আমাদের সম্পর্কে জানুন:

South BD News 24

South BD News 24 is committed to publish the daily news of South Bengal based on authenticity, honesty and courage...
জনপ্রিয়

দশমিনায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিন বসতঘর পুড়ে ছাই, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে ইউএনও

দশমিনায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিন বসতঘর পুড়ে ছাই, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে ইউএনও

আপডেট সময়: ০৭:৩২:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিনটি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়ন-এ ঘটনা ঘটে। এতে তিনটি পরিবারের প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কামাল মৃধার রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের বসতঘরগুলোতে। এতে হাবিব মৃধা, জাফর মৃধা ও কামাল মৃধার বসতঘরসহ ঘরে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আগুনে কামাল মৃধার ঘরে থাকা প্রায় ১০টি ছাগলও পুড়ে মারা গেছে।

প্রতিবেশী বিউটি বেগম আগুন দেখতে পেয়ে চিৎকার করে বাড়ির লোকজনকে ডাক দেন। পরে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ান। তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। তিনটি পরিবার প্রায় সর্বস্ব হারিয়েছে। তবে সৌভাগ্যবশত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। উপজেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকবে।

তিনি আরও জানান, তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিটি পরিবারকে নগদ পাঁচ হাজার টাকা করে চেক প্রদান করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে প্রতিটি পরিবারকে ১০০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবারের প্যাকেট ও তিনটি করে কম্বল দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঘর নির্মাণের জন্য দুই বান টিন আগামীকাল পৌঁছে দেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের আবেদন সাপেক্ষে ঘর পুনর্নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদনও পাঠানো হবে।

রনগোপালদী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রুবেল মৃধা বলেন, রাতেই তিনি অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়েছেন। যানবাহনের অভাবে রাতে ঘটনাস্থলে আসতে পারেননি। সকালে এসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সমাজসেবা কর্মকর্তাদের অবহিত করেন। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ১০০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য শাহানাজ বেগম অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী হারুন মৃধা ও তার ছেলে শাকিল মৃধা এ অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়েছে। ঘটনার আগের দিন তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে অভিযুক্ত পক্ষের হারুন মৃধা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে এবং পূর্ব শত্রুতার জেরেই এসব বলা হচ্ছে।