শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আক্রমণ এবং ইরান যুদ্ধে আমাদের নাগরিকদের সহযোগিতা করা হবে। সরকার পক্ষ থেকে পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। ওইসব দেশগুলোতে আমাদের দেশের নাগরিকরা যারা আছেন তাঁদেরকে সচেতন ও সতর্ক করা হচ্ছে।”
শনিবার (১ মার্চ) দুপুরে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের দরবার হলে জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তর প্রধানদের সঙ্গে মতনিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এ পরিস্থিতিতে তো আমার হাত নেই। শুক্রবার রাত থেকে মধ্যপ্রাচ্যেগামী কয়েকটি ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যায়। তবে, তাৎক্ষণিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা প্রায় সাড়ে আটশত লোককে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। পরিস্থিতি বিবেচনায় শনিবার কিছু কিছু ফ্লাইট চালু হতে পারে। তবে, আমাদের নাগরিকদের বলবো, সময়ের চেয়ে, অর্থের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। পরিস্থিতি যখন স্বাভাবিক হবে, তখন সরকারের পক্ষ থেকে সামগ্রিকভাবে দিক-নির্দেশনা দেওয়া হবে। সে পর্যন্ত নাগরিকদের ধৈর্য্য ধরতে হবে।”
তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত আমাদের দেশের নাগরিকদের বড় ধরণের বা উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষতি হয়নি। শুধু কুয়েতের বিমান বন্দরে ড্রোন হামলায় আমাদের দেশের চারজন নাগরিক আহত হয়েছে। এছাড়া দুবাইয়ে বাংলাদেশের ফাস্ট সেক্রেটারির বাসার এরিয়ায় একটি মিসাইলের আক্রমণ হয়েছে। তবে, ফাস্ট সেক্রেটারি অক্ষত আছেন বলে জানতে পেরেছি।”
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত নাগরিকদের বলবো আপাতত: তারা ওইসব দেশের সামরিক স্থাপনা বা ঘাঁটির কাছ থেকে দূরে অবস্থান করার জন্য। নাগরিকরা যদি গুরুতর অসুবিধায় মনে করেন তাহলে ওইসব দেশে আমাদের দূতাবাসগুলোতে কিছু হট লাইন ও কিছু ফোন নম্বর ওপেন করে দিয়েছে। এছাড়া প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রনালয়ের ফেইসবুক থেকে আপডেট দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে তারা যোগযোগ করতে পারবেন।”
তিনি আরও বলেন, “এ যুদ্ধে কিছু সমস্যা তো হবেই। বাংলাদেশ সবসময় প্রতিকূলতার মধ্যে সংগ্রাম করে এগিয়ে গেছে। তবে, আমাদেরকে সংকট মাথায় রেখেই যেকোনো ধরণের সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং এ বিষয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর একটা বিশেষ নজর আছে। তাই এ সমস্যা থাকবে না, কেটে যাবে।”
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সরকার দুর্নীতিমুক্ত এবং মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিচ্ছে। সরকার নির্বাচনের পূর্বে তাঁদের ইস্তেহারে যে ওয়াদা (কমিটমেন্ট) দিয়েছে, বিশেষ করে জনগণের সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়া, প্রশাসনকে জনমুখী, কল্যান মুখী করার সরকারের ম্যাসেজটি দপ্তরের প্রধানদের শেয়ার করেছি। আমরা চাই জনগণ হয়রানিমুক্ত একটি সেবা নিশ্চিত করতে।”
তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমাদের অফিস-আদালতগুলোতে লাল ফিতার দৌরাত্মের কথা শুনে আসছি সেটা বন্ধ করার জন্য দপ্তর প্রধানদের বলা হয়েছে। আমরা চাই জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অফিসগুলো যেন সময় মত শুরু হয়। আগেভাগে অফিস শুরু করতে পারলে মানুষের সেবার ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে থাকবো।”
তিনি বলেন, “প্রবাসে যেতে আমাদের দেশের মানুষ প্রতারক চক্র ও দালালদের খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছেন। যে জায়গা থেকে আমরা দালালদের ও মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের দৌরাত্ম বন্ধ করা, বিদেশে যাওয়ার ব্যয় নির্দিষ্ট করে দেওয়া এবং যেসব এজেন্সি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।”
এ প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী, পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ, গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য কৃষিবিদ শহিদুল ইসলাম ফাহিম, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শিপলু খান, জেলা আহবায়ক সৈয়দ নজরুল ইসলাম লিটু, সদস্য সচিব মো. শাহ আলম সিকদার ও সদ্দাম মৃধাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
জালাল আহমেদ: 







