০৪:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পটুয়াখালী জেলায় প্রায় সাত লাখ মেঃ টন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা

এ বছর ২০২৫-২৬ খরিপ-২ মৌসুমে আমনের বাম্পার ফলনের উজ্জ্বল সম্ভাবনায় কৃষকদের মুখে হাসি। কৃষক পরিবারের সদস্যদের বিশেষকরে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের মনেও আনন্দের ঢেউ।

একাধিক আমন চাষীদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, এবার আমনের ফলন ভাল দেখা যাচ্ছে। কোন ধরনের দুর্যোগ না হলে বা পোকা মাকরের আক্রমন না ঘটলে আশানুরুপ ধান ঘরে তোলা যাবে। পটুয়াখালী সদর উপজেলার তেলিখালী গ্রামের আঃ রাজ্জাক শরীফ জানান, “আমি এ বছর ৪ একর জমিতে আমন চাষ করেছি। ফলন ভাল হয়েছে। কোন দুর্যোগ বা পোকা মাকরের আক্রমন না হলে অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশী ধান পাবো। চাষাবাদের খরচ পুষিয়ে অনেক লাভ হবে” ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের বল্লভপুর গ্রামে সুনিল সরকার জানান, “আমি এ বছর দেড় কুরা অর্থাৎ ৩০ কাঠা জমিতে আমন রোপন করেছি। ফলন ভাল দেখায়। কোন ধরনের দুর্যোগ না হলে ভাল ফলন পাবো। চাষবাস, সার ও কিটনাশক খরচ উঠে অনেক লাভ হবে।”

সদর আউলিয়াপুর ইউনিয়নের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, “এবার আমন ফলন ভাল হয়েছে।” এ সব কৃষক পরিবারের স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা জানান, “বাড়ি থেকে স্কুলে যাবার পথে রাস্তার দু’পাশের ক্ষেতে ধান দেখে খুব ভাল লাগে, মনে আনন্দ আসে। বাবা ধান বিক্রি করে আমাদের জন্য নতুন নতুন জামা- কাপড় কিনে দিবে। নতুন জামা পড়ে স্কুলে যাবো, নানা- নানীর বাড়িতে বেড়াতে যাবো, ঘুরতে যাবো খুব ভাল লাগবে।”

পটুয়াখালী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামার বাড়ি সূত্রে জানাগেছে, ২০২৫-২৬ খরিপ-২ মৌসুমে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্য মাত্রা ছিল এক লক্ষ ৯০ হাজার ১১৫ হেক্টর জমি। এর মধ্যে উফশী জাতের এক লক্ষ ১৮ হাজার ১২০ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ৭১ হাজার ৯৪৫ হেক্টর। হাইব্রিড ধরা হয়েছিল ৫০ হেক্টর জমি। আবাদের লক্ষ্য শতকরা ৯৯.৮৫ ভাগ অর্জিত হয়েছে বলে কৃষি সম্প্রসার অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. আমানুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন। 

আবাদকৃত আমন আবাদের  মধ্যে রয়েছে উফশী জাতের এক লক্ষ ২১ হাজার ৩০৪ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের আবাদ হয়েছে ৬৮ হাজার ৫০৪ হেক্টর জমি। হাইব্রিড আবাদ হয়েছে ৩০ হেক্টর।  

পটুয়াখালী সদর উপজেলার উপ- সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ আব্দুস সালাম জানান, “এ বছর অনেক বৃষ্টি হয়ে রোপা আমন ক্ষেতে দীর্ঘদিন পানি জমিয়ে থাকার কারনে ফলন ভাল হয়েছে। তাছাড়া সার ও কীটনাশক ঔষধের সংকট ছিলনা। এবছর প্রতি হেক্টরে উফশী জাতের ৬ মেঃ টন থেকে ৬.৫ মেঃ টন ও স্থানীয় জাতের ৩.৫ মেঃ টন থেকে ৪.৫ মেঃ টন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।”

কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর খামার বাড়ি পটুয়াখালীর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, “জেলায় আমন ফলন ভাল। এ বছর জেলায় ৬ লক্ষ ৯৫ হাজার ৮৭৫ মেঃ টন ধান উৎপাদনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এ পরিমান ধান থেকে ৪ লক্ষ ৬৩ হাজার ৯১৭ মেঃ টন চাল উৎপাদন সম্ভাবনা রয়েছে।”

Tag:

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সেইভ করুন:

আমাদের সম্পর্কে জানুন:

South BD News 24

South BD News 24 is committed to publish the daily news of South Bengal based on authenticity, honesty and courage...
জনপ্রিয়

জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ উপলক্ষে পটুয়াখালীর টাউন বহালগাছিয়া সঃ প্রাঃ স্কুলে চিত্রাংকন ও স্কুল ফিডিং অনুষ্ঠিত 

error: Content is protected !!

পটুয়াখালী জেলায় প্রায় সাত লাখ মেঃ টন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা

আপডেট সময়: ০৩:২২:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫

এ বছর ২০২৫-২৬ খরিপ-২ মৌসুমে আমনের বাম্পার ফলনের উজ্জ্বল সম্ভাবনায় কৃষকদের মুখে হাসি। কৃষক পরিবারের সদস্যদের বিশেষকরে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের মনেও আনন্দের ঢেউ।

একাধিক আমন চাষীদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, এবার আমনের ফলন ভাল দেখা যাচ্ছে। কোন ধরনের দুর্যোগ না হলে বা পোকা মাকরের আক্রমন না ঘটলে আশানুরুপ ধান ঘরে তোলা যাবে। পটুয়াখালী সদর উপজেলার তেলিখালী গ্রামের আঃ রাজ্জাক শরীফ জানান, “আমি এ বছর ৪ একর জমিতে আমন চাষ করেছি। ফলন ভাল হয়েছে। কোন দুর্যোগ বা পোকা মাকরের আক্রমন না হলে অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশী ধান পাবো। চাষাবাদের খরচ পুষিয়ে অনেক লাভ হবে” ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের বল্লভপুর গ্রামে সুনিল সরকার জানান, “আমি এ বছর দেড় কুরা অর্থাৎ ৩০ কাঠা জমিতে আমন রোপন করেছি। ফলন ভাল দেখায়। কোন ধরনের দুর্যোগ না হলে ভাল ফলন পাবো। চাষবাস, সার ও কিটনাশক খরচ উঠে অনেক লাভ হবে।”

সদর আউলিয়াপুর ইউনিয়নের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, “এবার আমন ফলন ভাল হয়েছে।” এ সব কৃষক পরিবারের স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা জানান, “বাড়ি থেকে স্কুলে যাবার পথে রাস্তার দু’পাশের ক্ষেতে ধান দেখে খুব ভাল লাগে, মনে আনন্দ আসে। বাবা ধান বিক্রি করে আমাদের জন্য নতুন নতুন জামা- কাপড় কিনে দিবে। নতুন জামা পড়ে স্কুলে যাবো, নানা- নানীর বাড়িতে বেড়াতে যাবো, ঘুরতে যাবো খুব ভাল লাগবে।”

পটুয়াখালী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামার বাড়ি সূত্রে জানাগেছে, ২০২৫-২৬ খরিপ-২ মৌসুমে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্য মাত্রা ছিল এক লক্ষ ৯০ হাজার ১১৫ হেক্টর জমি। এর মধ্যে উফশী জাতের এক লক্ষ ১৮ হাজার ১২০ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ৭১ হাজার ৯৪৫ হেক্টর। হাইব্রিড ধরা হয়েছিল ৫০ হেক্টর জমি। আবাদের লক্ষ্য শতকরা ৯৯.৮৫ ভাগ অর্জিত হয়েছে বলে কৃষি সম্প্রসার অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. আমানুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন। 

আবাদকৃত আমন আবাদের  মধ্যে রয়েছে উফশী জাতের এক লক্ষ ২১ হাজার ৩০৪ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের আবাদ হয়েছে ৬৮ হাজার ৫০৪ হেক্টর জমি। হাইব্রিড আবাদ হয়েছে ৩০ হেক্টর।  

পটুয়াখালী সদর উপজেলার উপ- সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ আব্দুস সালাম জানান, “এ বছর অনেক বৃষ্টি হয়ে রোপা আমন ক্ষেতে দীর্ঘদিন পানি জমিয়ে থাকার কারনে ফলন ভাল হয়েছে। তাছাড়া সার ও কীটনাশক ঔষধের সংকট ছিলনা। এবছর প্রতি হেক্টরে উফশী জাতের ৬ মেঃ টন থেকে ৬.৫ মেঃ টন ও স্থানীয় জাতের ৩.৫ মেঃ টন থেকে ৪.৫ মেঃ টন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।”

কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর খামার বাড়ি পটুয়াখালীর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, “জেলায় আমন ফলন ভাল। এ বছর জেলায় ৬ লক্ষ ৯৫ হাজার ৮৭৫ মেঃ টন ধান উৎপাদনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এ পরিমান ধান থেকে ৪ লক্ষ ৬৩ হাজার ৯১৭ মেঃ টন চাল উৎপাদন সম্ভাবনা রয়েছে।”