১০:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিডর ও বুলবুলিতে ক্ষতিগ্রস্থ মাছ চাষী নজরুল গাজী ঘুরে দাঁড়াতে চায়!

জালাল আহমেদ, প্রধান প্রতিবেদক: সিডর, আইলা ও বুলবুলিসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বাধা-বিপত্তিতে ক্ষতিগ্রস্থ মৎস্য চাষী গাজী নজরুল ইসলাম ঘুরে দাড়াতে ফের ঝুঁকি নিয়ে জমি-জমা বন্ধক রেখে ও বিভিন্ন সংস্থা থেকে টাকা কর্জ করে  যশোর থেকে সাড়ে সাত মন রুই, কাতলা, মৃগেল, ব্রিগেড, সিলভারকাপ, মিনারকাপ, কালিবোষ ও ব্লাককাপ সহ বিভিন্ন জাতের পোনা সংগ্রহ করে  অবমুক্ত করেছেন। 

পটুয়াখালীর সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের বাদুরা গ্রামের মৃত ছত্তার গাজীর ছেলে মোঃ নজরুল ইসলাম গাজী  ২০০৪ সালে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে মাছ চাষের উপর এক মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে এলাকার বেকার যুবকদের প্রশিক্ষন দিয়ে ৩০- ৪০ জনের সমন্বয়ে দক্ষিণ-পূর্ব বাদুরা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি গড়ে তুলেন।  

এ সংগঠনের নামে প্রথমে আউলিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ২০০৪ সালের ৬ জানুয়ারী উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় তিন বছর মেয়াদের জন্য মুদির হাটের বাঁধ হতে জুলু মুন্সি বাড়ির বাঁধ পর্যন্ত ২৬.১১ একর আয়তনের বদ্ধ খাল (জলাশয়ের) এর  ২.৬২ একর  গ্যাফে মাছ চাষের জন্য লিজ নিয়ে যুব উন্নয়ন থেকে ১৫ হাজার টাকা, মৎস্য বিভাগ থেকে ১০ হাজার টাকা মোট ২৫ হাজার টাকা এবং ১২০  শতাংশ জমি ৪ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে মাছ চাষ শুরু করেন। কিন্তু  মাছ ধরে বিক্রির সময় সিডরের আঘাতে সব মাছ ভেসে যায়। এতে লাখ লাখ টাকা ক্ষতি হয়। 

পরবর্তীতে ২০১১ সালে ফের জমি বিক্রি করে ও বিভিন্ন জনের কাছ থেকে লোন করে জেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে মুদির হাটের বাঁধ হতে জুলু মুন্সির বাড়ির বাঁধ পর্যন্ত ২৬.১১ একর বদ্ধ জলাশয় ৬ বছরের লীজ গ্রহন করে সুদুর যশোরের চাঁচরার সাইফুজ্জামান মজুর শুভ্র মৎস্য চাষ প্রকল্পের হ্যাচারী ও একই এলাকার ইদ্রিস আলীর হামজা মৎস্য খামার হ্যাচারী থেকে রুই, কাতলা ও মৃগেলসহ বিভিন্ন জাতের মাছের রেণু এনে পোনা উৎপাদন করে মাছ চাষ করে লাভের মুখ দেখছিলেন। কিন্তু বিধিবাম! ঘূর্নিঝড় বুলবুলির প্লাবনে ও একাধিকবার প্রাকৃতিক ঝড়- জলোচ্ছ্বাস ও প্লাবনে মাছ ভেসে যাওয়ায় মোট ২০ লক্ষাধিক টাকার সমপরিমান ক্ষতির শিকার হন মাছ চাষী নজরুল গাজী।

তিনি জানান, ঘূর্নিঝড় বুলবুলির প্লাবনের আঘাত প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার মাছ ভেসে যায়। এ ক্ষতি ছিল খুব কস্টের ও দুঃখের। এতো ক্ষতির পরও মাছ চাষে পিছু হটে নাই মাছ চাষী নজরুল।  এ ক্ষতির মধ্যেও মাছ চাষ থেকে পিছু হটেনি নজরুল ইসলাম।

তার তিন ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে মেজ ছেলে পটুয়াখালী সরকারি কলেজে বানিজ্য বিভাগে অধ্যায়নরত রকিব গাজী বাবার অসহায়ত্ব দেখে সমিতির সেক্রেটারির দায়িত্ব নিয়ে কিছু জমি বিক্রি করে এবং কৃষি ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংক থেকে মোট ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা লোন নিয়ে অক্টোবর মাসের প্রথম দিকে ফের যশোর থেকে রুই, কাতলা, মৃগেল ও সিলভারকাপ মাছের রেনু এনে পোনা উৎপাদন করে মোট সাড়ে সাত মন পোনা উক্ত জলাশয়ের আদম হাওলাদার বাড়ির চার হতে লেবুতলা টু আজহার মুন্সির বাড়ি পর্যন্ত তিনটি গ্যাফে পোনা অবমুক্ত করেন। নজরুল গাজী ও ছেলে রাকিব গাজী জানান, এ বছর কোন বন্যা, ঘূর্ণিঝড় না হলে উৎপাদিত মাছ বিক্রি করে ক্ষতি পুষিয়ে লাভ হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।

৪২ বছর বয়সী মাছ চাষী নজরুল ইসলাম জানান, দক্ষিণ-পূর্ব বাদুরা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নামে প্রশাসনের কাছ থেকে ২৬.১১ একর বদ্ধ জলাশয় লিজ নিয়ে জলাশয়টি ৯ টি গ্যাফে বিভক্ত করে ৬ টি গ্যাফ সমিতির অন্য সদস্য ও এলাকার  যুবকদেরকে মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ করতে পেরে নিজেকে নিয়ে গর্ববোধ করছি। 

মাছ চাষে লাভ লোকসান ও শত কষ্টের মধ্যেও নজরুল গাজী ৪টি ছেলে মেয়েকে লেখাপড়া করাতে সক্ষম হয়েছেন বলে নিজেকে নিয়ে গর্ব করছেন। তার সন্তানদের মধ্যে সবার ছোট মেয়ে সুইটি পটুয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যায়নরত আছে। মেয়ে সুইটিও মাছ চাষে তাকে উৎসাহিত ও সাহস যোগাচ্ছে বলে জানান মাছ চাষী নজরুল ইসলাম গাজী।

Tag:

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সেইভ করুন:

আমাদের সম্পর্কে জানুন:

South BD News 24

South BD News 24 is committed to publish the daily news of South Bengal based on authenticity, honesty and courage...

দশমিনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর ভূমি জবর দখলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল

সিডর ও বুলবুলিতে ক্ষতিগ্রস্থ মাছ চাষী নজরুল গাজী ঘুরে দাঁড়াতে চায়!

আপডেট সময়: ১০:২৫:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫

জালাল আহমেদ, প্রধান প্রতিবেদক: সিডর, আইলা ও বুলবুলিসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বাধা-বিপত্তিতে ক্ষতিগ্রস্থ মৎস্য চাষী গাজী নজরুল ইসলাম ঘুরে দাড়াতে ফের ঝুঁকি নিয়ে জমি-জমা বন্ধক রেখে ও বিভিন্ন সংস্থা থেকে টাকা কর্জ করে  যশোর থেকে সাড়ে সাত মন রুই, কাতলা, মৃগেল, ব্রিগেড, সিলভারকাপ, মিনারকাপ, কালিবোষ ও ব্লাককাপ সহ বিভিন্ন জাতের পোনা সংগ্রহ করে  অবমুক্ত করেছেন। 

পটুয়াখালীর সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের বাদুরা গ্রামের মৃত ছত্তার গাজীর ছেলে মোঃ নজরুল ইসলাম গাজী  ২০০৪ সালে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে মাছ চাষের উপর এক মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে এলাকার বেকার যুবকদের প্রশিক্ষন দিয়ে ৩০- ৪০ জনের সমন্বয়ে দক্ষিণ-পূর্ব বাদুরা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি গড়ে তুলেন।  

এ সংগঠনের নামে প্রথমে আউলিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ২০০৪ সালের ৬ জানুয়ারী উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় তিন বছর মেয়াদের জন্য মুদির হাটের বাঁধ হতে জুলু মুন্সি বাড়ির বাঁধ পর্যন্ত ২৬.১১ একর আয়তনের বদ্ধ খাল (জলাশয়ের) এর  ২.৬২ একর  গ্যাফে মাছ চাষের জন্য লিজ নিয়ে যুব উন্নয়ন থেকে ১৫ হাজার টাকা, মৎস্য বিভাগ থেকে ১০ হাজার টাকা মোট ২৫ হাজার টাকা এবং ১২০  শতাংশ জমি ৪ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে মাছ চাষ শুরু করেন। কিন্তু  মাছ ধরে বিক্রির সময় সিডরের আঘাতে সব মাছ ভেসে যায়। এতে লাখ লাখ টাকা ক্ষতি হয়। 

পরবর্তীতে ২০১১ সালে ফের জমি বিক্রি করে ও বিভিন্ন জনের কাছ থেকে লোন করে জেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে মুদির হাটের বাঁধ হতে জুলু মুন্সির বাড়ির বাঁধ পর্যন্ত ২৬.১১ একর বদ্ধ জলাশয় ৬ বছরের লীজ গ্রহন করে সুদুর যশোরের চাঁচরার সাইফুজ্জামান মজুর শুভ্র মৎস্য চাষ প্রকল্পের হ্যাচারী ও একই এলাকার ইদ্রিস আলীর হামজা মৎস্য খামার হ্যাচারী থেকে রুই, কাতলা ও মৃগেলসহ বিভিন্ন জাতের মাছের রেণু এনে পোনা উৎপাদন করে মাছ চাষ করে লাভের মুখ দেখছিলেন। কিন্তু বিধিবাম! ঘূর্নিঝড় বুলবুলির প্লাবনে ও একাধিকবার প্রাকৃতিক ঝড়- জলোচ্ছ্বাস ও প্লাবনে মাছ ভেসে যাওয়ায় মোট ২০ লক্ষাধিক টাকার সমপরিমান ক্ষতির শিকার হন মাছ চাষী নজরুল গাজী।

তিনি জানান, ঘূর্নিঝড় বুলবুলির প্লাবনের আঘাত প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার মাছ ভেসে যায়। এ ক্ষতি ছিল খুব কস্টের ও দুঃখের। এতো ক্ষতির পরও মাছ চাষে পিছু হটে নাই মাছ চাষী নজরুল।  এ ক্ষতির মধ্যেও মাছ চাষ থেকে পিছু হটেনি নজরুল ইসলাম।

তার তিন ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে মেজ ছেলে পটুয়াখালী সরকারি কলেজে বানিজ্য বিভাগে অধ্যায়নরত রকিব গাজী বাবার অসহায়ত্ব দেখে সমিতির সেক্রেটারির দায়িত্ব নিয়ে কিছু জমি বিক্রি করে এবং কৃষি ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংক থেকে মোট ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা লোন নিয়ে অক্টোবর মাসের প্রথম দিকে ফের যশোর থেকে রুই, কাতলা, মৃগেল ও সিলভারকাপ মাছের রেনু এনে পোনা উৎপাদন করে মোট সাড়ে সাত মন পোনা উক্ত জলাশয়ের আদম হাওলাদার বাড়ির চার হতে লেবুতলা টু আজহার মুন্সির বাড়ি পর্যন্ত তিনটি গ্যাফে পোনা অবমুক্ত করেন। নজরুল গাজী ও ছেলে রাকিব গাজী জানান, এ বছর কোন বন্যা, ঘূর্ণিঝড় না হলে উৎপাদিত মাছ বিক্রি করে ক্ষতি পুষিয়ে লাভ হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।

৪২ বছর বয়সী মাছ চাষী নজরুল ইসলাম জানান, দক্ষিণ-পূর্ব বাদুরা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নামে প্রশাসনের কাছ থেকে ২৬.১১ একর বদ্ধ জলাশয় লিজ নিয়ে জলাশয়টি ৯ টি গ্যাফে বিভক্ত করে ৬ টি গ্যাফ সমিতির অন্য সদস্য ও এলাকার  যুবকদেরকে মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ করতে পেরে নিজেকে নিয়ে গর্ববোধ করছি। 

মাছ চাষে লাভ লোকসান ও শত কষ্টের মধ্যেও নজরুল গাজী ৪টি ছেলে মেয়েকে লেখাপড়া করাতে সক্ষম হয়েছেন বলে নিজেকে নিয়ে গর্ব করছেন। তার সন্তানদের মধ্যে সবার ছোট মেয়ে সুইটি পটুয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যায়নরত আছে। মেয়ে সুইটিও মাছ চাষে তাকে উৎসাহিত ও সাহস যোগাচ্ছে বলে জানান মাছ চাষী নজরুল ইসলাম গাজী।