১২:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আড়াই ঘন্টায় কুয়াকাটা সৈকত থেকে ৩২৩ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ

সাউথ বিডি নিউজ ২৪ ডেস্কঃ কুয়াকাটায় প্লাস্টিক দূষনের ভয়াবহতা চরমে নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা পটুয়াখালীর কুয়াকাটা। সাগরতীরের এই জনপদ সাগরের অবারিত সৌন্দর্যের কারণে সাগরকন্যা নামেও পরিচিত। গবেষণা অনুযায়ী এখানে রয়েছে বিপন্ন প্রজাতির নানান প্রাণী বিদ্যামান। আছে সংকটাপন্ন প্রাণীর সমাহারও। এছাড়া রয়েছে সমুদ্র সৈকত জুড়ে বিচিত্র প্রজাতির অমেরুদণ্ডী প্রাণীর বসবাস। দুঃখজনক হলেও এটা সত্যি, এই জীব বৈচিত্র্যের এক বড় অংশ আজ হারিয়ে গিয়েছে এই কুয়াকাটা থেকে। ক্রমবর্ধমান মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি, অসচেতনভাবে পর্যটকদের আনাগোনা আর দূষনে জর্জরিত কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। সবথেকে ভয়াবহ অবস্থা ধারণ করছে প্লাস্টিকের দূষণ। কুয়াকাটায় প্লাস্টিক দূষনের ভয়াবহতা নিরূপণ এবং মানুষের মনে জনসচেতনতা তৈরীতে পলিথিন ও সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক বন্ধকরণে দক্ষিণ অঞ্চলে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে আড়াই ঘন্টায় ছয় কিলোমিটার দূষণ সৃষ্টিকারী ৩২৩ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য উদ্ধার করেছে। পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের ৬ কিলোমিটার এলাকায় বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ফুড প্লাস্টিক (রাপ্যার), পলিথিন, ওয়ান টাইম প্লাস্টিক প্রোডাক্ট, বোতল, সিগারেট প্যাকেট, পরিত্যাক্ত মাছের জাল, পসাধনী প্রোডাক্ট, ই-বর্জ্য সংগ্রহ করে।

পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ অধিদপ্তরের সহোযোগিতায় কর্মসূচীটি বাস্তবায়ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল এন্ড জিওগ্রাফিকাল ইনফরমেশন সার্ভিসেস, সিইজিআইএস। স্থানীয় পরিবেশবাদী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এ্যানিমেল লাভারস অব পটুয়াখালীর সেচ্ছাসেবীরা গঙ্গামতির চর, সমুদ্র সৈকতের জিরো পয়েন্ট, কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান এলাকায় বর্জ্য সংগ্রহ করে।

স্থানীয়রা জানায়, পর্যটকরা অসচেতনতাবসত এই প্লাস্টিকগুলোকে সী বীচে ফালায়। আর দীর্ঘ দিনের এই অভ্যাসগত বিষয়গুলোর কারণে সমুদ্র সৈকত ভয়াবহ দূষিত। তবে, এত বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিকের উপস্থিতি প্লাস্টিক দূষনের ভয়াবহতার তীব্রতা প্রকাশ করে সমুদ্র সৈকতে। এখনই যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে আরও বেশি ভয়াবহতার মধ্যে পড়বো।

পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার সহকারী একান্ত সচিব ও পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণবিদ, আশিকুর রহমান সমী’র নেতৃত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিলেন, মো. জুবায়ের, আব্দুল হালিম মির্জা, দিপ্ত বিশ্বাস, মো. রাকিব হাসান, মো. নূর উদ্দীন, মো. রাজিব মিয়া।

এসময় সমুদ্র সৈকেতে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, পর্যটক সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হয়।

Tag:

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সেইভ করুন:

আমাদের সম্পর্কে জানুন:

South BD News 24

South BD News 24 is committed to publish the daily news of South Bengal based on authenticity, honesty and courage...

দশমিনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর ভূমি জবর দখলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল

আড়াই ঘন্টায় কুয়াকাটা সৈকত থেকে ৩২৩ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ

আপডেট সময়: ০৫:৩১:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০২৪

সাউথ বিডি নিউজ ২৪ ডেস্কঃ কুয়াকাটায় প্লাস্টিক দূষনের ভয়াবহতা চরমে নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা পটুয়াখালীর কুয়াকাটা। সাগরতীরের এই জনপদ সাগরের অবারিত সৌন্দর্যের কারণে সাগরকন্যা নামেও পরিচিত। গবেষণা অনুযায়ী এখানে রয়েছে বিপন্ন প্রজাতির নানান প্রাণী বিদ্যামান। আছে সংকটাপন্ন প্রাণীর সমাহারও। এছাড়া রয়েছে সমুদ্র সৈকত জুড়ে বিচিত্র প্রজাতির অমেরুদণ্ডী প্রাণীর বসবাস। দুঃখজনক হলেও এটা সত্যি, এই জীব বৈচিত্র্যের এক বড় অংশ আজ হারিয়ে গিয়েছে এই কুয়াকাটা থেকে। ক্রমবর্ধমান মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি, অসচেতনভাবে পর্যটকদের আনাগোনা আর দূষনে জর্জরিত কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। সবথেকে ভয়াবহ অবস্থা ধারণ করছে প্লাস্টিকের দূষণ। কুয়াকাটায় প্লাস্টিক দূষনের ভয়াবহতা নিরূপণ এবং মানুষের মনে জনসচেতনতা তৈরীতে পলিথিন ও সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক বন্ধকরণে দক্ষিণ অঞ্চলে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে আড়াই ঘন্টায় ছয় কিলোমিটার দূষণ সৃষ্টিকারী ৩২৩ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য উদ্ধার করেছে। পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের ৬ কিলোমিটার এলাকায় বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ফুড প্লাস্টিক (রাপ্যার), পলিথিন, ওয়ান টাইম প্লাস্টিক প্রোডাক্ট, বোতল, সিগারেট প্যাকেট, পরিত্যাক্ত মাছের জাল, পসাধনী প্রোডাক্ট, ই-বর্জ্য সংগ্রহ করে।

পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ অধিদপ্তরের সহোযোগিতায় কর্মসূচীটি বাস্তবায়ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল এন্ড জিওগ্রাফিকাল ইনফরমেশন সার্ভিসেস, সিইজিআইএস। স্থানীয় পরিবেশবাদী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এ্যানিমেল লাভারস অব পটুয়াখালীর সেচ্ছাসেবীরা গঙ্গামতির চর, সমুদ্র সৈকতের জিরো পয়েন্ট, কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান এলাকায় বর্জ্য সংগ্রহ করে।

স্থানীয়রা জানায়, পর্যটকরা অসচেতনতাবসত এই প্লাস্টিকগুলোকে সী বীচে ফালায়। আর দীর্ঘ দিনের এই অভ্যাসগত বিষয়গুলোর কারণে সমুদ্র সৈকত ভয়াবহ দূষিত। তবে, এত বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিকের উপস্থিতি প্লাস্টিক দূষনের ভয়াবহতার তীব্রতা প্রকাশ করে সমুদ্র সৈকতে। এখনই যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে আরও বেশি ভয়াবহতার মধ্যে পড়বো।

পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার সহকারী একান্ত সচিব ও পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণবিদ, আশিকুর রহমান সমী’র নেতৃত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিলেন, মো. জুবায়ের, আব্দুল হালিম মির্জা, দিপ্ত বিশ্বাস, মো. রাকিব হাসান, মো. নূর উদ্দীন, মো. রাজিব মিয়া।

এসময় সমুদ্র সৈকেতে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, পর্যটক সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হয়।