০৫:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ছোটবেলার বান্ধবীকে নিয়ে একটি চমৎকার রোমান্টিক ছোটগল্প।

  • মমতাজ খানমঃ
  • আপডেট সময়: ০৯:৫২:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০২৪
  • ৮০১ বার পড়া হয়েছে

ছোটবেলার বন্ধু

আজ আমি হাসতে হাসতে মূর্ছা গেলাম, কেন জানেন? জানলেতো আমার বারোটা বাজিয়ে দিবেন! তবুও একটুসখানি বলি। আমিনা আমার সেই ছোটবেলার বন্ধুটির সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম, সাথে ছিল আমার মামনি লতা। গিয়ে দেখি, ওর শশুর বাড়ীর একটি বাগানে সব্জি তুলছে। আমি সুমনাকে গিয়ে পিছন থেকে চোখ চেঁপে ধরলাম। ওমা! খুব লাগছেতো, ছেরে দাও, ছেড়ে দাও, কে তুমি? এসব বলতে থাকলো। আমি ছাড়ছিনা, তবুও আরো জোড়ে চেঁপে ধরছি।

ওমা, এ কোন দুষ্টরে আমাকে ছাড়ছেনা! ছাড়ো নয়তো জোরে চিৎকার করে মানুষ জমা করে ফেলবো। মনে মনে কিছুটা ভয় পেয়ে গেলাম। তারপরেও ছাড়ছিনা, বলছি আমি কে বল তারপর ছাড়ব।

এদিকে লতা মামনি হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। সুমনা আস্তে করে একটা চিৎকার দিল। পিছু ফিরে কে যেন একজন তাকাল, আমি না দেখার ভান করে বলছি, বল আমি কে? তারপরে ছাড়ব। ওমা! তুমি পুরুষ দেখি! আমার স্বামী দেখলেতো তোমাকে মেরেই ফেলবে। এই কি বলছোস? আমি কি তোর স্বামীর চেয়ে কম নাকি রে! তবুও ছাড়ছিনা চোখ। এবার লতা মামনি এসে বলল, বাবা! এবার ছেড়ে দাও, আন্টির লাগছেতো। আমি আবার লতা মামনির কথা ফেলিনা। তারপরেও বললাম, এবার বল আমি কে? সুমনা আমি কে তা বলতেই পারল না, তবুও লতা মামনির কথায় চোখদু’টো ছেড়ে দিলাম।

আমাকে দেখে চোখদু’টো কচলাতে কচলাতে ডাগোর ডাগোর চোখে ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে ভ্যা করে কেঁদে ফেলল। সুমনা দোস্ত তুই,,,,, বলে আমাকে জড়িয়ে ধরল। লতা মামনিকে ইঙ্গিত করে বলল কে এই পরিটা? বলেই বুকে জড়িয়ে নিলো। লতা মামনিকে এর আগের কথোপওকথনে সুমনার বুঝতে আর বাকি রইলনা যে ও আমার নয়নের মনি। এবার বল, এত বছর পরে তুই কোথা থেকে আসলি? তোর ছোটবেলার অভ্যাসটাতো এখনও রয়ে গেছে। আমাকে যখন তখন মারতিস, চুল ধরে টান দিতিস, ঘার ধরে ধাক্কা দিতিস, আর আমি ভয়ে তোকে দেখে পালিয়ে ১০ হাত দুরে থাকতাম। তবুও তুই মারার জন্য আমাকে খুজে বেড়াতিস আর আজও দেখলাম তার রেশ তোর রয়েই গেছে আমাকে মারার অভ্যাসটা তোর এখনো যায়নি এসেই তাই করলি।

আমি: বললাম তুই কি আমাকে এখনো ভয় পাস?
সুমনা: না পেয়ে কই যাব বল? এসেইতো তাই করলি! ওকে চল এবার বাড়ী চল। চলে গেলাম সুমনার বড়ীতে।

বাড়ীতে গিয়ে সুমনার স্বামীর সাথে পরিচয় করিয়ে দিল। ব্যাচারা স্বামী মামুন সাহেব বেশ ভাল মানুষ, আমার সাথে আলিঙ্গন করে রিসিভ করলেন কিন্তুু আমি কি আর শান্তিতে থাকতে দেই! সুমনাকে বললাম সুমনা আমার চেয়ে খুব একটা ভাল হয়নি মনের দিক থেকে। হতে পারে কিন্তুু ভালবাসা আর দুষ্টমীতে তেমনটা নয়।

ভালবাসার মধ্যে দুষ্টুমী আর একটু পর পর রাগিয়ে দেওয়া না হলে কি প্রেম জমে? ভাল লাগে বল? এগুলো সবই মামুন সাহেবের সামনেই বলা।

মামুন সাহেব মুচকি হাসি দিয়ে আমাকে নাস্তা এনে দিলেন আর বললেন, নেন পুড়ানো প্রেমিককে তো পেলেন না তার হাতের খাবার খেয়ে তৃপ্তি নিন। আমি তো শেষ ওনার কথা শুনে তবে কি সন্ধেহের বীজ বপন করলাম নাকি এগুলো মনে মনে ভাবতেছি আর নাস্তা খাচ্ছি।

একটু পরে সুমনা কাছে আসলে তার গায়ে একটু ফুক দিয়ে কুলি ছুড়ে দিলাম আর বললাম এই নাও আমার হাতে তো অনেকদিন খাওনা কিছুটা নাও খেয়ে নাও। সুমনা তো লজ্জায় লাল হয়ে গেল আর মনে মনে ভাবল এই শালা কি আমার সংসারটা ভেঙ্গে দিতেই আসল নাকি। আমি বুঝতে পেরে খানিকটা নিজেকে গুটিয়ে নিলাম। কিছুক্ষণ চুঁপচাপ থেকে আবার শুরু করলাম। আমার মত মানুষ দুষ্টুমী না করে কি আবার চুঁপচাপ থাকতে পারে নাকি!

সুমনাকে বললাম, চা বানাও, অনেক দিন হয়েছে তোমার হাতের চা খাইনা। সুমনার স্বামী মামুন সাহেব বললেন, যাও প্রাক্তনকে চা বানিয়ে খাওয়াও। সুমনা চা নিয়ে হাজির আর আমি ব্যাচারা সুমনার মুখপানে এমন নজর কাড়া ভাবে তাকিয়ে রইলাম যেনো ও আসলেই আমার প্রাক্তন। তবে সুমনার স্বামী তেমন একটা কিছু মনে করেননি। তিনি বুঝে ফেলছেন যে আসলেই আমি একজন দুষ্ট লোক, আমি প্রেমিক নই।

কিছুক্ষণ এইসকল দুষ্টুমী করে দুপুরবেলা খেয়েদেয়ে চলে আসলাম। কিন্তু আমাদের এইসব পাগলামো দেখে লতা মামনি হাসতে হাসতে শেষ। ছোটবেলার বন্ধুদের সাথে এমনটাই হয়…

কলমেঃ মমতাজ খানম

Tag:

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সেইভ করুন:

আমাদের সম্পর্কে জানুন:

South BD News 24

South BD News 24 is committed to publish the daily news of South Bengal based on authenticity, honesty and courage...
জনপ্রিয়

জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ উপলক্ষে পটুয়াখালীর টাউন বহালগাছিয়া সঃ প্রাঃ স্কুলে চিত্রাংকন ও স্কুল ফিডিং অনুষ্ঠিত 

error: Content is protected !!

ছোটবেলার বান্ধবীকে নিয়ে একটি চমৎকার রোমান্টিক ছোটগল্প।

আপডেট সময়: ০৯:৫২:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০২৪

ছোটবেলার বন্ধু

আজ আমি হাসতে হাসতে মূর্ছা গেলাম, কেন জানেন? জানলেতো আমার বারোটা বাজিয়ে দিবেন! তবুও একটুসখানি বলি। আমিনা আমার সেই ছোটবেলার বন্ধুটির সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম, সাথে ছিল আমার মামনি লতা। গিয়ে দেখি, ওর শশুর বাড়ীর একটি বাগানে সব্জি তুলছে। আমি সুমনাকে গিয়ে পিছন থেকে চোখ চেঁপে ধরলাম। ওমা! খুব লাগছেতো, ছেরে দাও, ছেড়ে দাও, কে তুমি? এসব বলতে থাকলো। আমি ছাড়ছিনা, তবুও আরো জোড়ে চেঁপে ধরছি।

ওমা, এ কোন দুষ্টরে আমাকে ছাড়ছেনা! ছাড়ো নয়তো জোরে চিৎকার করে মানুষ জমা করে ফেলবো। মনে মনে কিছুটা ভয় পেয়ে গেলাম। তারপরেও ছাড়ছিনা, বলছি আমি কে বল তারপর ছাড়ব।

এদিকে লতা মামনি হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। সুমনা আস্তে করে একটা চিৎকার দিল। পিছু ফিরে কে যেন একজন তাকাল, আমি না দেখার ভান করে বলছি, বল আমি কে? তারপরে ছাড়ব। ওমা! তুমি পুরুষ দেখি! আমার স্বামী দেখলেতো তোমাকে মেরেই ফেলবে। এই কি বলছোস? আমি কি তোর স্বামীর চেয়ে কম নাকি রে! তবুও ছাড়ছিনা চোখ। এবার লতা মামনি এসে বলল, বাবা! এবার ছেড়ে দাও, আন্টির লাগছেতো। আমি আবার লতা মামনির কথা ফেলিনা। তারপরেও বললাম, এবার বল আমি কে? সুমনা আমি কে তা বলতেই পারল না, তবুও লতা মামনির কথায় চোখদু’টো ছেড়ে দিলাম।

আমাকে দেখে চোখদু’টো কচলাতে কচলাতে ডাগোর ডাগোর চোখে ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে ভ্যা করে কেঁদে ফেলল। সুমনা দোস্ত তুই,,,,, বলে আমাকে জড়িয়ে ধরল। লতা মামনিকে ইঙ্গিত করে বলল কে এই পরিটা? বলেই বুকে জড়িয়ে নিলো। লতা মামনিকে এর আগের কথোপওকথনে সুমনার বুঝতে আর বাকি রইলনা যে ও আমার নয়নের মনি। এবার বল, এত বছর পরে তুই কোথা থেকে আসলি? তোর ছোটবেলার অভ্যাসটাতো এখনও রয়ে গেছে। আমাকে যখন তখন মারতিস, চুল ধরে টান দিতিস, ঘার ধরে ধাক্কা দিতিস, আর আমি ভয়ে তোকে দেখে পালিয়ে ১০ হাত দুরে থাকতাম। তবুও তুই মারার জন্য আমাকে খুজে বেড়াতিস আর আজও দেখলাম তার রেশ তোর রয়েই গেছে আমাকে মারার অভ্যাসটা তোর এখনো যায়নি এসেই তাই করলি।

আমি: বললাম তুই কি আমাকে এখনো ভয় পাস?
সুমনা: না পেয়ে কই যাব বল? এসেইতো তাই করলি! ওকে চল এবার বাড়ী চল। চলে গেলাম সুমনার বড়ীতে।

বাড়ীতে গিয়ে সুমনার স্বামীর সাথে পরিচয় করিয়ে দিল। ব্যাচারা স্বামী মামুন সাহেব বেশ ভাল মানুষ, আমার সাথে আলিঙ্গন করে রিসিভ করলেন কিন্তুু আমি কি আর শান্তিতে থাকতে দেই! সুমনাকে বললাম সুমনা আমার চেয়ে খুব একটা ভাল হয়নি মনের দিক থেকে। হতে পারে কিন্তুু ভালবাসা আর দুষ্টমীতে তেমনটা নয়।

ভালবাসার মধ্যে দুষ্টুমী আর একটু পর পর রাগিয়ে দেওয়া না হলে কি প্রেম জমে? ভাল লাগে বল? এগুলো সবই মামুন সাহেবের সামনেই বলা।

মামুন সাহেব মুচকি হাসি দিয়ে আমাকে নাস্তা এনে দিলেন আর বললেন, নেন পুড়ানো প্রেমিককে তো পেলেন না তার হাতের খাবার খেয়ে তৃপ্তি নিন। আমি তো শেষ ওনার কথা শুনে তবে কি সন্ধেহের বীজ বপন করলাম নাকি এগুলো মনে মনে ভাবতেছি আর নাস্তা খাচ্ছি।

একটু পরে সুমনা কাছে আসলে তার গায়ে একটু ফুক দিয়ে কুলি ছুড়ে দিলাম আর বললাম এই নাও আমার হাতে তো অনেকদিন খাওনা কিছুটা নাও খেয়ে নাও। সুমনা তো লজ্জায় লাল হয়ে গেল আর মনে মনে ভাবল এই শালা কি আমার সংসারটা ভেঙ্গে দিতেই আসল নাকি। আমি বুঝতে পেরে খানিকটা নিজেকে গুটিয়ে নিলাম। কিছুক্ষণ চুঁপচাপ থেকে আবার শুরু করলাম। আমার মত মানুষ দুষ্টুমী না করে কি আবার চুঁপচাপ থাকতে পারে নাকি!

সুমনাকে বললাম, চা বানাও, অনেক দিন হয়েছে তোমার হাতের চা খাইনা। সুমনার স্বামী মামুন সাহেব বললেন, যাও প্রাক্তনকে চা বানিয়ে খাওয়াও। সুমনা চা নিয়ে হাজির আর আমি ব্যাচারা সুমনার মুখপানে এমন নজর কাড়া ভাবে তাকিয়ে রইলাম যেনো ও আসলেই আমার প্রাক্তন। তবে সুমনার স্বামী তেমন একটা কিছু মনে করেননি। তিনি বুঝে ফেলছেন যে আসলেই আমি একজন দুষ্ট লোক, আমি প্রেমিক নই।

কিছুক্ষণ এইসকল দুষ্টুমী করে দুপুরবেলা খেয়েদেয়ে চলে আসলাম। কিন্তু আমাদের এইসব পাগলামো দেখে লতা মামনি হাসতে হাসতে শেষ। ছোটবেলার বন্ধুদের সাথে এমনটাই হয়…

কলমেঃ মমতাজ খানম